নিউজ ডেস্ক
বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেশ–বন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ (Desh-Bondhu Remittance Juddah Shonshod) আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সংগঠনটি জানায়, তারা বিশ্বের প্রায় ১৯২টি দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি, মানবাধিকার ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করতে চায়।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশকে দেশের রাজনীতিতে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে জনগণের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিশেষ করে সর্বশেষ সরকার তৃতীয়বার ক্ষমতায় টিকে থাকার মাধ্যমে দেশকে কার্যত একদলীয় শাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে তারা দাবি করেন। এর ফলে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হয়ে পড়ে। এতে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাত, শেয়ারবাজার ও নির্বাচন ব্যবস্থায় অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগও তোলা হয়।
দেশ–বন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, গত বছরগুলোতে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছে বলে তারা মনে করে।
সংগঠনের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। তারা বলেন, স্বাধীনতার আগে ও পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক গতিপথে বহিরাগত হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে সংগঠনটি উল্লেখ করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিল জনগণের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফল। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ, নির্যাতিত নারী ও বুদ্ধিজীবীদের বলিদানের মধ্য দিয়েই স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। সেই চেতনা রক্ষাই তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের মূল প্রেরণা বলে জানান তারা।
সংগঠনটি বিশেষভাবে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জানায়, প্রবাসী শ্রমিক ও পেশাজীবীরা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস। ফলে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সক্রিয় ভূমিকা সময়ের দাবি বলে তারা মনে করে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন—
অ্যাডভোকেট এ এন এম এসা, প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক।
এম এ রউফ (কাতার), সাধারণ সম্পাদক।
মি. ফারুক আহমেদ চৌধুরী, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউরোপ কনভেনর।
মুসাদ্দিক হোসেন মানিক মিয়া (যুক্তরাজ্য), যুক্তরাজ্য কনভেনর।
দেশ–বন্ধু রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ আশা প্রকাশ করে জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, মানবাধিকারসম্মত ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।