জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
‘সোনালী আঁশের সোনার দেশ, পরিবেশ বান্ধব বাংলাদেশ’ এবং
‘পলিথিন বর্জন করুন, পাট পণ্য ব্যবহার করুন’—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যশোরের মনিরামপুরে পাটবীজ উৎপাদনকারী চাষিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন পাট অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের “উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প”-এর আওতায় বৃহস্পতিবার মনিরামপুরে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাট অধিদপ্তর, ঢাকার উপপ্রকল্প পরিচালক ও উপসচিব সৈয়দ ফারুক আহম্মদ।
তিনি বলেন,পাট শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়, এটি আমাদের পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার। উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পাট ও পাটবীজ উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির আমিন দায়ান বলেন,পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক। কৃষকদের আধুনিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাটচাষকে আরও লাভজনক করা সম্ভব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা কৃষি ইঞ্জিনিয়ার সুজাউদ্দিন। তিনি বলেন,
“পাট একটি পরিবেশবান্ধব ফসল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে পাটের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটপণ্য ব্যবহারে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম আব্দুল বাকি। তিনি বলেন,
“এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাষিরা উন্নত জাতের পাটবীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাবেন।”
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ সোহানুর রহমান , মোঃ শাহিনুজ্জামান, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান,কৃষক হায়দার আলী, মাসুম বিল্লাহসহ আরো অনেকে।
বক্তারা পাটবীজ উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তি, রোগবালাই দমন ও ফলন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কৃষক হায়দার আলী বলেন,
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা পাটবীজ উৎপাদনের নতুন কৌশল জানতে পারছি। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ফলন ও লাভ দুটোই বাড়বে।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মধ্যে পাট ও পাটবীজ উৎপাদন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।