বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (CAAB)-এর Flight Operations Inspector (FOI) নিয়োগ সংক্রান্ত ORAM পরীক্ষা গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার পূর্ববর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রকাশিত পরবর্তী সাক্ষাৎকার তালিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছে যে, পূর্বে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত এবং বিভিন্ন তদন্তের মুখোমুখি হওয়া অন্তত দুইজন সাবেক সিনিয়র FOI কীভাবে আবারও সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেন—তা নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উইং কমান্ডার (অব.) কাজী কবির, যিনি অতীতে CAAB (বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ) থেকে নথি চুরির অভিযোগে চাকরি হারান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনিও এই সাক্ষাৎকার তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ADC হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক ফ্লাইট সেফটি সদস্য এয়ার কমডোর জিয়াউল কবির–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা ক্যাপ্টেন আজিজ আব্বাসী রফিক–এর বিরুদ্ধেও অতীতে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত পরিচালিত হয়েছিল বলে সূত্র জানায়। তবে সেই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন আজও প্রকাশ বা বাস্তবায়ন হয়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে।
এতে করে প্রশ্ন উঠছে—
• যাদের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অভিযোগ ছিল,
• যাদের কেউ কেউ সরকারি চাকরি থেকে অপসারিত হয়েছেন বলে জানা যায়,
তারা কীভাবে আবারও একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন?
অনেকের মতে, এটি কি পূর্ববর্তী শাসনামলের (Awami লীগ–সমর্থিত) প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর পুনর্বাসন (rehabilitation) প্রক্রিয়ার অংশ? নাকি এর পেছনে এখনো সক্রিয় রয়েছে কোনো অদৃশ্য প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রভাব—সে প্রশ্নও উঠছে
বিমান চলাচলের মতো একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপত্তা–সংবেদনশীল খাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাদার মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ ধরনের স্পর্শকাতর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জনসম্মুখে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না এলে জনআস্থা আরও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।