সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন
Headline :
পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস ও বাইসাইকেল আটক লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা মোঃসেলিম মিয়া গোমস্তাপুরে সড়কের পাশে অটো রাইস মিল নির্মাণ, সড়কে বালু-নির্মাণসামগ্রী—দুর্ঘটনার শঙ্কা মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ কসমেটিক্স-বিকাশের দোকানের আড়ালে মাদক ও অনলাইন জুয়ার অভিযোগ! জুয়েলকে ঘিরে চাঞ্চল্য। তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়। চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল থেকে অবসর গ্রহন করলেন ডা. নূরুল হক “হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের” কালিয়াকৈরে অভিযান: ১১০টি কারেন্ট ও রিং জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস নীলফামারীতে ৪ শিশুকে একা পেয়ে ধর্ষণচেষ্টা চেষ্টা, বৃদ্ধ গ্রেফতার। আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ সিরাজগঞ্জে নাটুয়াপাড়ায় লিও পাম্প বাংলাদেশের উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি সার্ভিস ক্যাম্প সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি মধুপুরে মাদক-জুয়া ও সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে মতবিনিময় আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:

রিপোর্টার ইউনিটির ব্যানারে চাঁদাবাজি, হুমকি ও দখলচেষ্টার বিস্তর অভিযোগ

Update : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

সিরাজদিখান প্রতিনিধিঃ

সিরাজদিখানে নিজেদের সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত রিপোর্টার ইউনিটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা এবং সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টাসহ নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র ও ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সংগঠনটির কার্যক্রম মূলত সাংবাদিকতার নৈতিকতা নয়, বরং সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা আদায়ের দিকেই কেন্দ্রীভূত।

অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্টের আগে সংগঠনের উপদেষ্টা তালিকায় যারা ছিলেন, তারা সে সময়কার রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই যুক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংগঠনের উপদেষ্টা তালিকায় দ্রুত পরিবর্তন আনা হয়। এ সময় মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের সাবেক দুর্নীতিগ্রস্ত সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন সর্দারের নামও উপদেষ্টা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি ছিল নিজেদের অবস্থান রক্ষার কৌশল।

পরবর্তীতে সংগঠনের কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে চলতি বছরে সমাজের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে উপদেষ্টা দেখিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে কমিটিতে যুক্ত করা হয় রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীসহ এমন ব্যক্তিদের, যারা নিয়মিত বা পেশাদার সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত নন। অভিযোগ রয়েছে, এই কাঠামোর মাধ্যমে সংগঠনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

নির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদের কাছে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি। একইভাবে মধ্য মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মাস্টার আব্দুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকেও সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে মর্মে তথ্যপ্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

এছাড়াও স্থানীয় আইনজীবী বিশ্বনাথ দাস অপু নামে এক আইনজীবীর সম্পত্তি রিপোর্টার ইউনিটির ব্যানার ব্যবহার করে জবরদখলের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় সম্পত্তির মালিক বিশ্বনাথ দাস অপু বাদী হয়ে নাছির উদ্দীন ও লিংকনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লিংকন কয়েক বছর আগেও এলাকায় ৩০০ টাকা মাসিক বেতনে কোচিং করত। বর্তমানে তিনি সভাপতি নাছির উদ্দীনের সঙ্গে নিয়ে এলাকায় নানা অন্যায় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে তারা মুন্সীগঞ্জ ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিল এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করেও বারবার পার পেয়ে যায়। ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে নাছির ও লিংকন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, সদস্যদের ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা আদায় এবং স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে প্রায় এক বছর আগে সংগঠনের অধিকাংশ সদস্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, লিংকন একাধিক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণসহ তাদের ওপর শারীরিকভাবে চড়াও হন, যা এ উপজেলায় আগে কখনো ঘটেনি।

সভাপতি নাছির ও সাধারণ সম্পাদক লিংকন রিপোর্টার ইউনিটির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে আদায় করা চাঁদার অর্থ আত্মসাতের ঘটনা সিরাজদিখানের স্থানীয় সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের কাছে ওপেন সিক্রেট।

স্থানীয় পেশাজীবী সাংবাদিক ও সচেতন মহলের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সিরাজদিখানে স্বচ্ছ সাংবাদিকতার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক আনুগত্যকে পুঁজি করে নাছির উদ্দীন ও লিংকন সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব ও মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেও পুলিশ প্রশাসনের অসাধু কিছু কর্মকর্তা ও বিএনপির কিছু নীতি আদর্শহীন নেতার ছত্রছায়ায় এখনও টিকে আছে। সিরাজদিখানের সাংবাদিক সমাজ এই দুই সুপরিচিত বাটপারের অপরাধের রাজত্বের অবসান দেখতে চায়।

এদিকে সিরাজদিখান উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ তাদের অন্যায় অপকর্মের ব্যাপারে তদন্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির উদ্দীন ও লিংকনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


More News Of This Category