সীতাকুণ্ডে ধ/র্ষ/ণে/র অভিযোগে গ্রেফতার ২
নিজস্ব প্রতিবেদক
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক তরুণীকে জোরপূর্বক অপহরণের পর দলবদ্ধ ধর্ষণের (গ্যাংরেপ) লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আকিলপুর গ্রামের মৃত দিলীপ ঘোষের পুত্র সঞ্জয় কুমার ঘোষ (৩৮) এবং মীরেশ্বরাই উপজেলার মীরেরহাট জাফরনগর মণ্ডল বাড়ির পাশের কালা মিয়ার পুত্র আলাউদ্দিন (৪০)।
এই মামলার অপর পলাতক আসামি হলেন সৈয়দপুর ইউনিয়নের দুলাল মেম্বার বাড়ির সাহাবুদ্দিনের পুত্র রহিম উদ্দিন (২৫)।মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী (১৮) স্থানীয় ১ নম্বর সৈয়দপুর ইউনিয়নের মীরেরহাট বাজারে তাঁর মায়ের সাথে একটি বাসাবাড়িতে বুয়া বা মালিনীর কাজ করেন। গত ২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার সময় ওই তরুণী কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মামলার ২ নম্বর আসামি আলাউদ্দিন ও ৩ নম্বর আসামি রহিম উদ্দিন তরুণীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক পথরোধ করে। তারা তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে টেনেহেঁচড়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণকারীরা তাকে জাফরনগর স্কুলের পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
সেখানে পৌঁছানোর পর ২ নম্বর আসামি আলাউদ্দিন মুঠোফোনে কল করে ১ নম্বর আসামি সঞ্জয় কুমার ঘোষকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। তিন অভিযুক্ত মিলে তরুণীকে নির্জন স্থানে আটকে রেখে প্রথমে কুপ্রস্তাব দেয়। তরুণী এতে রাজি না হওয়ায় এবং বাঁচার আকুতি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন তরুণীর সাথে থাকা গামছা কেড়ে নিয়ে তা দিয়ে তাঁর মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। এরপর আসামিরা পালাক্রমে তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পাশবিক নির্যাতনের পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তরুণী উদ্ধার হয়ে বাড়িতে পৌঁছান এবং স্বজনদের বিস্তারিত জানান।এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বুধবার সকালে তরুণীর মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দয়েরের পরপরই সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশনায় পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি সঞ্জয় কুমার ঘোষ ও ২ নম্বর আসামি আলাউদ্দিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক অপর আসামি রহিম উদ্দিনকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।