সিলেটের ডিসি পদ নিয়ে রহস্য! নতুন ডিসির যোগদান আটকে, আবারও আলোচনার কেন্দ্রে সারওয়ার আলম।
মোঃ আরিফুল ইসলাম মুরাদ সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক বাংলার সংবাদ,,,,
সিলেটে নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মু. রেজা হাসান এখনো দায়িত্ব নিতে পারেননি। প্রজ্ঞাপন জারির পরও শেষ মুহূর্তে তার সিলেট সফর স্থগিত হওয়ায় প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সাবেক ডিসি মো. সারওয়ার আলমের নাম।
,,,যা জানা যাচ্ছে
গত ২৮ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে সিলেটে বদলি করা হয়। তবে ১ জুলাই দায়িত্ব নিতে সিলেটে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও শেষ মুহূর্তে তাকে ঢাকায় ফিরে যেতে বলা হয়। এরপর থেকে তার যোগদান নিয়ে আর কোনো নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
সিলেট জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, নতুন ডিসি কবে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে তাদের কাছেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পৌঁছেনি।
কেন এত আলোচনা?
সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান স্থগিতের কারণ জানায়নি। তবে বিভিন্ন প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। এসব দাবির স্বাধীন বা সরকারি নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
কেন ফের আলোচনায় সারওয়ার আলম?
সারওয়ার আলমকে ২১ জুন “জনস্বার্থে” প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে তার প্রত্যাহারের পর থেকেই সিলেটসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
দায়িত্ব পালনকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেন। ঐতিহ্যবাহী দানের ডেগ সিলগালা, নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং পরে প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনার উদ্যোগ ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। এক পক্ষ এই উদ্যোগকে স্বচ্ছতার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও, অন্য পক্ষ এটিকে শতবর্ষের ঐতিহ্যে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করে।
পরবর্তীতে এই দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমাধানের লক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এদিকে নতুন ডিসির যোগদান অনিশ্চিত থাকায় সিলেটের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা-গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে।