বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
Headline :
সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক এনামুল হকের ৪৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন মোঃ ফেরদৌস হোসেন অপুষ্টি রোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান, সাঘাটায় পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সভা মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক এনামুল হকের ৪৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি, সৌদি প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা ও দালালমুক্ত পরিবেশ গঠনে ‘সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম’-এর অঙ্গীকার নর্থ ওয়েস্ট ওভারসীজ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সরকারি নির্দেশনা অমান্য দেহব্যবসার জেরে খুলনায় ইজিবাইক চালক হত্যা ( দৈনিক বাংলার সংবাদ ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ সোহেল রানা ) বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে রয়েছে সরকার: বান্দরবানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি শ্রীবরদীতে জিয়া খাল উদ্ধার ও পুনঃখনন চাই এলাকাবাশী বাঁশী গাইবান্ধায় বাক-প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার

সাঘাটায় জোর গতিতে চলছে নদী শাসন প্রকল্প।

Update : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ

 

গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই যমুনা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীর করাল গ্রাসে প্রতি বছর বহু পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ভাঙনের ফলে কোথাও নতুন চর জেগে ওঠে, আবার বর্ষা মৌসুমে সেই চর ডুবে গেলে মানুষকে ফিরে আসতে হয় নদীর এপারে। নদীভাঙা মানুষের এই স্থানান্তরের গল্প যেন শেষ হয় না।

 

এমন বাস্তবতায় নদীভাঙন রোধে সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী শাসন প্রকল্পের কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গাইবান্ধার অধীনে ভরতখালী ইউনিয়নের বরমতাইড় ও সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় প্রায় দেড় কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করে কাজ চলমান রয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগে প্রকল্পটির কাজে অনিয়মের বিষয়টি সামনে এলেও বর্তমানে কাজের গতি বেড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পাউবো সূত্র জানায়, ২০২০—২১ ও ২০২১—২২ অর্থবছরে যমুনা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে সাঘাটা উপজেলার গোবিন্দি ও হলদিয়া এলাকা রক্ষায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এর আওতায় ভরতখালী ইউনিয়নের গোবিন্দি প্যাকেজ—১ এ প্রায় ২৪ কোটি ২৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩৫০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ চলছে।

 

এছাড়া সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় চারটি প্যাকেজে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মুন্সিরহাট প্যাকেজ—১ এ ২৫ কোটি ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩১১ দশমিক ৫১ মিটার, প্যাকেজ—২ এ ২৬ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩২৭ মিটার, প্যাকেজ—৩ এ ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৭ মিটার এবং প্যাকেজ—৪ এ ২৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৯৫ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ চলছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীতীরে স্লোপ তৈরি করে জিও ম্যাট বিছানোর পর বালু ও ব্রিকস চিপসের স্তরের ওপর ব্লক ডাম্পিং ও ব্লক প্লেসিংয়ের কাজ করছেন শ্রমিকরা। প্রতিটি জায়গায় নির্ধারিত নিয়মে কাজ দ্রুত শেষ করতে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

বরমতাইড়ের স্থানীয় বাসিন্দা আবু রায়হান বলেন, প্রতি বছর নদীর ভাঙনের ভয়ে থাকতে হয়। এবার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। কাজ শেষ হলে হয়তো আমাদের বসতবাড়ি রক্ষা পাবে। মুন্সিরহাট এলাকার বাসিন্দা বাকের মিয়া বলেন, আগে অনেক অনিয়মের কথা শোনা গেছে। এখন কাজ দ্রুত হচ্ছে। ঠিকভাবে কাজ শেষ হলে এলাকাবাসীর উপকার হবে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের কাজ নকশা অনুযায়ী বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল সরকার বলেন, স্থানীয় জনগণ নিয়ে আমরা নিয়মিত তদারকী করছি। নদী প্রকল্পের কাজ ভাল হলে আমাদের বসতবাড়ি রক্ষা পাবে।


More News Of This Category