স্টাফ রিপোর্টার:আরমান খান অপু
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ আব্দুল রাজ্জাক অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, অবৈধভাবে আটক রেখে নির্যাতন, অস্ত্রের মুখে দলিলে টিপসই নেওয়া, ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন এবং তার বসতবাড়ি দখলের ঘটনায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এসব অভিযোগ তুলে ধরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার ও নিজের বসতবাড়ি উদ্ধার করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
আবেদনে শেখ আব্দুল রাজ্জাক দাবি করেন, নিজের কষ্টার্জিত অর্থে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাবুপাড়ায় একতলা একটি ভবন নির্মাণ করার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরোয়ার এবং ওয়ার্ড সদস্য মিজানুর রহমান ময়েনসহ কয়েকজন তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তাকে একটি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে অবৈধভাবে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে পুলিশ পরিচয়ে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করে জমির মূল দলিল ও ব্যাংকের চেকবই নিয়ে যায়। এছাড়া অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক দলিলে টিপসই নেওয়া হয় এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে মামলাটি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, রাজবাড়ী-২-এ বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে অভিযুক্তরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বের করে দেয় এবং বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে বাড়ির দেয়ালে ‘এই বাড়ি বিক্রি হবে’ লেখা পোস্টারও টাঙানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শেখ আব্দুল রাজ্জাক দাবি করেন, এসব ঘটনার কারণে তার পরিবার চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। তার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তিনি নিজেও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বিচারাধীন মামলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার বসতবাড়ি অবৈধ দখলমুক্ত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।