শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল, শিক্ষকের দাবি—‘সব দোষ সিসি ক্যামেরার
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
১১ আগস্ট, ২০২৬
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতড়া ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৫৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ জন পাস করেছিল। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে চিত্র পুরো উল্টে গেছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি—ফলাফল নেমে এসেছে শূন্যে।
বিদ্যালয়ের এই চরম বিপর্যয় ও শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষকেরা অজুহাত তুলেছেন সিসি ক্যামেরার। তাঁদের দাবি, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা ভীতি ও আতঙ্কে পরীক্ষা ভালো দিতে পারেনি। অন্যদিকে অভিভাবকদের অসচেতনতাকেও দায়ী করছেন তাঁরা।
তবে নয়জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও ১৮ জন শিক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যালয়ের পাঠদান ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়। গত বছর অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার অকৃতকার্যের হার ১০০ শতাংশ।
ঘটনার বিবরণ জানতে গত সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অফিসকক্ষে কয়েকজন শিক্ষককে বসে থাকতে দেখা গেলেও শ্রেণিকক্ষগুলোতে হাতে গোনা ১৫-১৬ জন শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, “এবার আমাদের পরীক্ষার্থীরা কিছুটা ভীতু ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকায় তারা ভয় পেয়ে যায়। সেই কারণেই এই ফল হয়েছে। আশা করছি আগামী দিনে তারা ভালো করবে।”
আরেক সহকারী শিক্ষক মুশফিকুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা কিছুটা অসচেতন। এর ওপর সিসি ক্যামেরার ভয়ে পরীক্ষার্থীরা আতঙ্কে পরীক্ষা ভালো দিতে পারেনি। এটিই মূলত ফেল করার মূল কারণ। অতীতে কোনো সমস্যা ছিল না, শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে অংশ নিয়ে পাসও করেছিল।”
শিক্ষকদের এমন অজুহাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় যুবক সবুজ মিয়া বলেন, “৯ জন শিক্ষক থাকার পরও ১৮ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস না করার পেছনের কারণ কী? পাঠদানে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কারও গাফিলতিতে বিদ্যালয়টি ধ্বংস হয়ে যাক, আমরা তা চাই না।”
বিষয়টি নিয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, “যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের শোকজ করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।”