হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃ
যুক্তরাষ্ট্র শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার আগেই সংগঠনটির ভেতরে-বাইরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেন ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলছেন সংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মী।খবর আইবিএননিউজ ।
সংগঠনের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রায়হান মাহমুদকে সভাপতি এবং মাহমুদুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্রলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। তবে যাদের দিয়ে কমিটি গঠনের কথা বলা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকায় শুরু থেকেই সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, রায়হান মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি জাহিদ হাসানের আপন ছোট ভাই। তার বয়স ৪০-এর বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে, যা ছাত্র সংগঠনের প্রচলিত বয়সসীমার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন অনেকেই। এছাড়া তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে—তিনটি বিয়ের তথ্য এবং এক আত্মীয়াকে বিয়ে করে নির্যাতনের অভিযোগে দেশে মামলা থাকার কথাও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একাধিক ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানা গেছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, গত ৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় তাকে সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় দেখা যায়নি। তবে কমিটি গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার উপস্থিতি বেড়েছে।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মাহমুদুল হাসানকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান করছেন এবং রাজনৈতিক আশ্রয়ের (asylum) আবেদন করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলছেন কেউ কেউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে তার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, কমিটি গঠনে অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাদের ভাষ্য, “যদি টাকা দিয়ে কমিটি হয় এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়, তাহলে যারা দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করেছে, তাদের মূল্যায়ন কোথায়?”
আরেকজন নেতা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। এখানে এমন কাউকে নেতৃত্বে আনা হলে, যার বৈধ কাগজপত্র নেই, তা সংগঠনের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এবং তার বৈধতা না থাকায় আইস(ICE)ধরে যদি দেশে পাঠিয়ে দেয় তবে সংগঠনের জন্য এটা লজ্জার ”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংগঠনের এক প্রভাবশালী নেতা বলেন, “দলের এই কঠিন সময়ে সঠিক নেতৃত্ব না এলে সংগঠনকে আরও মূল্য দিতে হবে।”
এর আগে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে ‘কমিটি বাণিজ্য’ নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছিল, নতুন করে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, এই সংকটময় সময়ে যারা মাঠে থেকে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতে সংগঠনকে শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিতে পারবেন, তাদেরই নেতৃত্বে আনা উচিত।