## মেটলাইফে ব্রাজিলের জয়রথ থামাল মরক্কো, ১-১ গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি
**আফজাল হোসেন ফরাজি**
*বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলার সংবাদ*
**নিউজার্সি, ১৪ জুন ২০২৬:** নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২ হাজার ফুটবলপ্রেমীর গগনবিদারী চিৎকারের মাঝে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্বকাপের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচ। তবে মাঠের লড়াই শেষে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারেনি কোনো দলই। মরক্কোর জমাট রক্ষণ আর ক্ষুরধার কাউন্টার অ্যাটাকের সামনে ১-১ গোলের সমতায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। ১০০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দুই দলই একে অপরকে টেক্কা দিয়েছে সমানে সমানে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে মরক্কো। সেলেসাওদের রক্ষণকে ব্যস্ত রেখে ম্যাচের ১৭ মিনিটেই লিড নেয় ‘আটলাস লায়ন্স’রা। ব্রাহিম দিয়াজের এক দুর্দান্ত থ্রু পাস ধরে ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসনকে পরাস্ত করেন আবদে সাইবারি। ঠান্ডা মাথার এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে মরক্কোকে উল্লাসে ভাসান এই ফরোয়ার্ড।
তবে পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি সেলেসাওরা। ৩২ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রাফিনহার বাড়ানো পাস বক্সের বাঁ প্রান্তে নিয়ন্ত্রণে নেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর ডান পায়ের এক দর্শনীয় কার্লিং শটে বল জড়ান মরক্কোর জালে। বিশ্বসেরা গোলরক্ষক ইয়াসিন বউনো ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে নিজের ৫০তম ম্যাচটি চমৎকার এক গোল দিয়ে স্মরণীয় করে রাখলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো ও ইবানিয়েন্তেজ হলুদ কার্ড দেখেন। বিরতির ঠিক আগে অতিরিক্ত সময়ে লুকাস পাকেতার একটি দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক সিজার কিক রুখে দিয়ে মরক্কোর ত্রাতা হন বউনো। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুদল।
দ্বিতীয়ার্ধে কার্ডের ঝুঁকি এড়াতে কৌশলী পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ক্যাসেমিরো ও ইবানিয়েন্তেজকে তুলে তিনি মাঠে নামান ফাবিনহো ও দানিলোকে। এই অর্ধে বলের দখল ও আক্রমণে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল।
৬৭ মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের ক্রস থেকে রাফিনহা সুযোগ হাতছাড়া করেন। এরপর ৭৮ মিনিটে রাফিনহার আরেকটি বুলেট গতির শট দেয়াল হয়ে রুখে দেন বউনো। ম্যাচের শেষ দিকে মরক্কোও কয়েকটি বিপজ্জনক কাউন্টার অ্যাটাক চালায়, যা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেন ব্রাজিলিয়ান প্রাচীর আলিসন। ম্যাচের শেষভাগে কর্নারের একটি সিদ্ধান্ত ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবর্তিত হলে ব্রাজিলের ডেডলক ভাঙার শেষ সুযোগটিও হাতছাড়া হয়।
ম্যাচের পরিসংখ্যানও বলছে লড়াইয়ের তীব্রতার কথা। প্রথমার্ধে মরক্কোর এক্সপেক্টেড গোল (xG) যেখানে ছিল ১.২২, সেখানে ব্রাজিলের ছিল ০.৮৫। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেলেসাওরা।
মেটলাইফের এই ড্রয়ের পর গ্রুপ ‘সি’-এর সমীকরণ বেশ জমে উঠেছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে যেতে হলে ব্রাজিল ও মরক্কো—উভয় দলের জন্যই এখন হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচগুলো বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হলো।