রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪২ অপরাহ্ন
Headline :
গাইবান্ধার বাংলা বাজারে বাণিজ্য মেলার নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার অভিযোগ। নাগেশ্বরীতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে গন সংযোগে ব্যাস্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। লালমনিরহাটে বিয়ের দাবিতে বিচারকের বাড়িতে শিক্ষিকার অনশন ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিন, বাকি চালের মান যাছাই দাবী রংপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় চিকিৎসাধীন ১ জনের মৃত্যু, আহত ১ লালমনিরহাটে মাদক অভিযান ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে তিন কর্মকর্তা আশুগঞ্জ উপজেলা বি এন পির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত । তেরখাদায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা পাটগ্রাম সী’মান্তে বিএসএফের সঙ্গে বাংলাদেশি কৃষকদের সং’ঘ’র্ষ, গু’লি ও বি’স্ফোরক নি’ক্ষে’পের অ’ভিযোগ সরাইল থানায় ঢুকে ওসির হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এম, পি রুমিন ফারহানার,

ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিন, বাকি চালের মান যাছাই দাবী

Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিন, বাকি চালের মান যাছাই দাবী

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম

ভারত থেকে সরকারিভাবে (জিটুজি) আমদানি করা চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে (সিএসডি) সংরক্ষিত ১৩৫ টন চালে বিষাক্ত উপাদান আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় চালগুলো খাবার উপযোগী বলে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও পরবর্তী পরীক্ষায় ক্ষতিকর এ উপাদানের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এ ঘটনায় চালের মান যাচাই ও অধিকতর পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শনাক্ত চালের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নিয়ে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ নামের জাহাজে করে ভারত থেকে চালের চালানটি দেশে আনা হয়। গত ২১ জুলাই জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছালে পরদিন খাদ্য অধিদপ্তরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় চাল খাবার উপযোগী বলে প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২৪ ও ২৫ জুলাই চাল খালাস করা হয়।
পরে চালের একটি অংশ ঢাকার তেজগাঁও কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর স্থানীয় খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। তবে গুদামে পৌঁছানোর পর চালের নিম্নমান দেখে আপত্তি তোলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চালগুলো খাবারের অনুপযোগী বলে সন্দেহ হওয়ায় পরিবহন ঠিকাদাররাও সেগুলোর পরিবহন স্থগিত রাখেন। বিষয়টি লিখিতভাবে খাদ্যসচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়।
এরপর আমদানি করা চালের মান পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ১৭ আগস্ট গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল চট্টগ্রামে আসে। দলটি হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডির কয়েকটি স্তূপ থেকে চালের নমুনা সংগ্রহ করে। পরবর্তী পরীক্ষায় হালিশহর সিএসডিতে সংরক্ষিত ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ জানান, ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। অধিকতর পরীক্ষার জন্য চালের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ শাখার নিয়ন্ত্রক রেজোয়ান সাকিব জানান, হালিশহর সিএসডির চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে অধিকতর পরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানের নির্দেশে আমদানি করা সাড়ে ৯ হাজার টন চালের বিতরণ স্থগিত রেখে মান যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরীক্ষায় ১৩৫ টন চালে ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়ার পর বাকি চাল নিয়ম অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গুদামের কর্মকর্তারা।

১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার পর চালগুলো ধ্বংস করা হবে, নাকি আমদানিকারক দেশের কাছে ফেরত পাঠানো হবে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের তথ্য জানা যায়নি। অধিকতর পরীক্ষার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিষয়টি। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হওয়া চালের নিরাপদ নিষ্পত্তি এবং একই চালানের অবশিষ্ট অংশের মান যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফলাটক্সিন এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান, যা মূলত ‘অ্যাসপারজিলাস’ গোত্রের ছত্রাক থেকে তৈরি হয়। আর্দ্রতা ও অনুকূল পরিবেশে শস্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা হলে এ ছত্রাক জন্মাতে পারে। চাল, বাদাম, মসলা ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে তাতে আফলাটক্সিন তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গাজীপুর ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমে জানান, আফলাটক্সিনযুক্ত খাবার দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে যকৃতের ক্ষতি হতে পারে এবং যকৃতের ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এ অবস্থায় আমদানি করা খাদ্যশস্যের প্রাথমিক মান পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা, গুদামে সংরক্ষণব্যবস্থা এবং পরবর্তী পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শনাক্ত চালের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল ও সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশের পাশাপাশি একই চালানের অন্যান্য অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


More News Of This Category