অথই নূরুল আমিন
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশে হয়ে গেলো একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন। উক্ত নির্বাচনে সরকারি দল ( বিএনপি ) দুইশ’র বেশি আসন পেয়ে আজকে তারা সরকার গঠন করেছে। এদিকে বিরোধী দল তারা নির্বাচনে কারচুপি না বলে, ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে বলে সরকারের বদনাম করছে প্রতিদিন।
সরকার এবং বিরোধী দল তারা সবাই জন্ম সূত্রে বাংলাদেশী নাগরিক হলেও। তাদের মতাদর্শ সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন দেখা যাচ্ছে। সরকারি দলের নেতারা,এমপি, মন্ত্রীরা তারা দেশ তথা জাতীয়তাবাদের কথা বলছেন। অন্য দিকে আজকে সারাদিনব্যাপী বিরোধী দলীয় নেতারা,তাদের সেই পুরাতন শ্লোগান যেমন, ইনকিলাব, ইনকিলাব বলে শ্লোগান দিচ্ছেন।
দেশের সাধারণ জনগণ কিন্তু কমবেশি সকল দলের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। এখানে কথা থাকে যে, নির্বাচনের পূর্বে বেশকিছু রাজনৈতিক দল তাদের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছেন। বতর্মান সরকার (বিএনপি)র ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে সরকারের পক্ষে একশ আশি দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এবং নতুন মন্ত্রীদের বেলায় ইশতেহার বাস্তবায়নে কড়া হুসিয়ারীও দিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আরো কথা থাকে যে, বাংলাদেশের সংবিধানমতে একটি বিরোধী দলের যা যা দায়িত্ব পালন করার কথা তা কিন্তু আমরা কখনও কোনো বিরোধী দলকেই পালন করতে দেখিনি। তার কারণ এমপি হিসেবে সরকার দল আর বিরোধী দল উভয় দলই কিন্তু রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা প্রায় সবাই সমান পেয়ে থাকেন। মন্ত্রীদের বেলায় আলাদা।
তবে জনগণের ন্যায্য দাবী আদায় করতে, সরকার দলের সাথে বিরোধী দলগুলো অতিতে তেমন কিছুই করতে দেখিনি। আসলে আমাদের দেশের বিরোধী দলগুলো সবসময় চায়। সরকার যেন ভুল করে। সরকারের কাজে যেন ভুল হয়। সরকারের পক্ষে যেন জনগণ না থাকে ইত্যাদি ইত্যাদি। যাকে বলে ঘরের শত্রু বিভিষন।
এদিকে বতর্মান সরকারি দলের এমপি মন্ত্রীরা, এখনই বিরোধী দলকে জ্ঞান দিচ্ছেন। এবং তাদের শ্লোগান পরিবর্তন করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এটা আসলে খুব বেশি শোভনীয় নয় মনে হচ্ছে। এদিকে বিরোধী দলের নেতাদেরকে বলতে চাই, শেখ হাসিনার আমলে যারা সবচেয়ে বেশি হাসিনা বিরোধী ছিলেন। আজকে তারাই কিন্তু বিরোধী দলে আছেন । কথা থাকে যে, বতর্মান সরকারের সাথে শেখ হাসিনার তো কোন সম্পর্ক নেই। দলও ভিন্ন পথও ভিন্ন মতও ভিন্ন । তাহলে এখানে উভয় দল যদি সাপ বেজির মত সবসময় ঝগড়ায় লিপ্ত থাকেন। তাহলে জনগণ যে আপনাদের কে ভোট দিয়েছে। তাদের চাওয়া- পাওয়া মেটানোর দায়িত্ব শুধুই সরকারের হবে কেন? আর আপনারা আবোলতাবোল বলে সময় নষ্ট করবেন সবসময়। আর ভাববেন সব দোষ সরকারের হোক। আসলে তা কিন্তু এবার নাও হতে পারে। দেশের জনগণ কিন্তু বতর্মানে খুবই সচেতন। তারা কিন্তু বিরোধী দলের ভোট প্রত্যাহার মিছিল করতে পারে। বিরোধী দল বয়কট আন্দোলন করতে পারে। এই অধিকার কিন্তু জনগণের রয়েছে। সেদিন হাসিনা পতনের আন্দোলনে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন হয়েছিল। আজকে যদি তিনশ আসন জুড়ে তিনশ কমিটি হয়। তার নাম যদি হয়।” জাতীয় ভোটার অধিকার পরিষদ ” এবং সেই ভোটার কর্তৃক যদি বিভিন্ন আসনের অযোগ্য বা বাজে প্রলাভ এর জন্য এমপি অবাঞ্চিত ঘোষণা করতে থাকে। এবং তারা যদি ফের উক্ত আসনে ভোট দাবি করে বসে। তখন কিন্তু আপনাদের আম ছালা দুটাই যেতে পারে।
আপনারা যারা বিরোধী দলে আছেন। সরকারকে সহযোগীতা করবেন। সরকার ও সাধ্যমত আপনাদের দাবী দাওয়া পূরণ করবেন বলে আমি মনে করি। সরকার এবং বিরোধী দল সবাইকে বলছি। আপনারা কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সবাই। তাহলে জনগণের কথা, জনগণের জন্য ভালো কিছু করা কিন্তু সরকার দল ও বিরোধী দল সকলের দায়িত্ব। আজকে আপনারা যদি যার যার শ্লোগান নিয়ে কোন্দল শুরু করেন। গণভোটের বিষয় নিয়ে যদি ঝগড়ায় লিপ্ত হোন। তাহলে কিন্তু জনগণ আপনাদের প্রতি বিরক্ত হতে পারে চরমভাবে। তখন সকলের ইজ্জত নষ্ট হতে পারে। একটি অযোগ্য সরকারের পতনের পর আজকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে একদল সরকার গঠন করেছেন। আরেক দল বিরোধী হয়েছেন । এখন আপনারা যদি সেই অযোগ্য সরকারের চেয়েও বেশি অযোগ্য হয়ে যান। তাহলে কিন্তু সরকার দল আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ হয়ে যেতে পারে আর বিরোধী দল কিন্তু আজকের জাতীয় পার্টির মত অবস্থা ও হতে পারে।
ভাষা পরিমার্জন, শ্লোগান নিয়ে তর্কাতর্কি, বিতর্ক বদনাম কে বড়? কে ছোট অতিতে কে কি করেছেন? এসব বলার সময় কিন্তু এখন না। আমি মনে করি সরকার দল বিরোধী দল উভয়ই মিলেই জনগণের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা গুলো সমাধান করুন। মানুষের মন জয় করতে চেষ্টা করুন সবাই। সাবধান আসনে আসনে ভোটার অধিকার পরিষদ নামে সংগঠন হতে দিয়েন না। তাহলে কিন্তু এমপি গীরি থাকবে না কারো। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে সংগঠন করে যদি একটি সরকার পতন করা যায়। তাহলে ভোটার অধিকার পরিষদ করে কিন্তু জনগণ নতুন করে ভোট চাওয়ায় অধিকার রাখে। আপনারা অবশ্যই জানেন, জনগণ অবাঞ্চিত ঘোষণা করলে আর কিছুই করার থাকে না। জনগণের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন। এই দায়িত্ব সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ের।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্রচিন্তক
মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং।
২১. ফেব্রুয়ারি ২০২৬