নুশরাত আর বাদল – কাজল চোখের গল্প।
কলমে ; সাংবাদিক এম বাদল খন্দকার।
বাদলটা আগে থেকেই একটু পাগলাটে। হিমু ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর নুশরাত হলো সেই কাজল চোখের মেয়ে, যার চোখে তাকালেই বাদলের বুকের বাঁ পাশটা থমকে যায়।
অনেক দিন পর দেখা। নুশরাত এখন বিবাহিতা সেজে এসেছে, আসলে সেটা তার একটা অভিনয় ছিল। বাদল জিজ্ঞেস করে –
> “বিয়ে করোনি কেন এখনো?”
> নুশরাত হেসে বলে, “অপেক্ষায় ছিলাম।”> “কার অপেক্ষায়? প্রীতির?”> “না, তোমার।”
বাদল চমকে যায়। যে মেয়েটাকে সে সবসময় আগলে রাখতো, গুছিয়ে রাখতো, সেই মেয়েটা তার জন্যই বছরের পর বছর হৃদয় পুড়িয়ে খাঁটি করেছে।
রাতের বেলা, কারেন্ট নেই। নুশরাত মোমবাতি হাতে দাঁড়িয়ে। আলো-আঁধারিতে বাদল বলে ওঠে –
“শোনো কাজল চোখের মেয়ে,
আমার দিবস কাটে বিভাস হয়ে, তোমার চোখে চেয়ে।
তুই তাকালে থমকে থাকে আমার বুকের বাঁ পাশ
যদি তুই কাজল চোখে তাকাস।”
সবাই তাকিয়ে আছে, কিন্তু বাদল পরোয়া করে না। সে নুশরাতকে জড়িয়ে ধরে বলে, “আমি তোমাকে আর ছাড়বো না।”
বৃষ্টি নামে। সবাই ভিজে যায়। সেই বৃষ্টির মাঝেই বাদল নুশরাতের হাত ধরে, পুরনো সেই ডায়েরিটা বের করে, যেখানে লেখা ছিল নুশরাতকে নিয়ে তার সব কবিতা। নুশরাত কাঁদতে কাঁদতে পড়ে।
শেষ দৃশ্যে, ইটের সিঁড়িতে বসে আছে দুজন। নুশরাত লাল-সাদা শাড়িতে, খোঁপায় কাঠগোলাপ। বাদল সাদা পাঞ্জাবিতে।
নুশরাত অভিমান করে বলে, “তুমি আমাকে এত কষ্ট দিলে কেন?”
বাদল হেসে বলে, “কাছে থাকতে তোর মূল্য বুঝিনি। তোকে হারিয়ে বুঝেছি, তুই ছাড়া আমার সব ফাঁকা।”
এটাই হলো বাদল আর তার নুশরাতের গল্প। একটা অপেক্ষার গল্প, একটা কাজল চোখের গল্প।