বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
Headline :
খুলনার তেরখাদায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ পালন রিয়াদে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি ফোরাম: তিন পক্ষের সাথে প্রতিমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রংপুরে পৌরসভার ভবন নির্মাণকালে ছাদ ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু পাহাড়ে শান্তি ফেরাতে সন্তু লারমার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ওয়াদুদ ভূইয়া নুশরাত আর বাদল – কাজল চোখের গল্প। নতুন ভিসি অবরুদ্ধ, চুয়েটের ২১ দিনের ছাত্র আন্দোলনের নতুন সংকট হেডলাইন:* কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত টঙ্গী বাজারের ওলামা-মাশায়েখ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের মতবিনিময় সভা পরিবারের মেলেনি স্বীকৃতি, ইঁদুরের বিষ খেয়ে প্রেমিকের পর প্রেমিকারও মৃত্যু হুথিরা তেহরানের নিয়ন্ত্রণে নয়, হরমুজও তাদের নাগালের বাইরে

নতুন ভিসি অবরুদ্ধ, চুয়েটের ২১ দিনের ছাত্র আন্দোলনের নতুন সংকট

Update : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

নতুন ভিসি অবরুদ্ধ, চুয়েটের ২১ দিনের ছাত্র আন্দোলনের নতুন সংকট

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম

* শিক্ষার্থীদের বাসে হামলা ও শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ; পূর্ণ অসহযোগে শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

* দুপুর ১২টার আলটিমেটাম, এরপর তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। টানা ২১ দিনের আন্দোলনের মধ্যে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে নিজ দপ্তরে বসার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাঁকে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারীরা। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ক্যাম্পাসে আসার পথে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে দুই দফা হামলা, বাসচালককে মারধর এবং এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে চুয়েটের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি যৌথভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে পূর্ণ কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো।

বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর কুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পর থেকেই সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি অংশও কর্মসূচিতে অংশ নেয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
টানা ২১ দিন ধরে চলা আন্দোলনের কারণে নতুন উপাচার্য এতদিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি। এর মধ্যে গতকাল সোমবার সকালে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। প্রধান ফটকে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে ভেতরে প্রবেশের পর চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর সহযোগিতায় প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পরে ছাত্রদল নেতারাও তাঁদের সহযোগিতায় উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে স্বীকার করেন। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের মতামত উপেক্ষা করে বহিরাগত ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় উপাচার্যের এভাবে প্রবেশের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং আন্দোলনকে আরও উসকে দিয়েছে।

উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দপ্তরে বসার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ২১তম আবর্তের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে সসম্মানে ভবন ত্যাগ করার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন না ছাড়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
এতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। দিনভর প্রশাসনিক ভবন এলাকায় ‘নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’ স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলেও শিক্ষার্থীরা ভেতরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জন্য খাবার পৌঁছে দেন। দীর্ঘ সময় ধরে তালাবদ্ধ ভবনে অবস্থানরত ব্যক্তিদের কথা বিবেচনা করে তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করাকে শিক্ষার্থীদের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অনেকে।

অবরুদ্ধ অবস্থায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ও বিভিন্ন ব্যাচের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্লাস শুরুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি ক্যাম্পাসে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
উপাচার্য বলেন, গত সাত দিন ধরে হলের ২০২৪ ও ২০২৫ ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে হতাশার কথা জানিয়েছেন এবং কবে ক্লাস শুরু হবে, তা জানতে চেয়েছেন। ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস প্রতিনিধিদের মাধ্যমে লিখিতভাবে ক্লাসে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অনেক শিক্ষকও ক্লাস শুরু করতে চান বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “হলের কিছু ছেলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। আমি যখন অন্য ব্যাচের সঙ্গে কথা বললাম, তারা লিখিতভাবে জানাল যে তারা ক্লাসে ফিরতে চায়। আমি তো ক্লাস করাতেই চাই। অনেক শিক্ষকও ক্লাসে ফিরতে আগ্রহী। এমন পরিস্থিতিতে আমার বাইরে থাকা ঠিক হবে না ভেবে আমি সকালে ক্যাম্পাসে চলে এসেছি।”
নিজের দপ্তরে প্রবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ভালোভাবেই তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন এবং কোনো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হননি। পরে বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, ডিন, ছাত্রকল্যাণ পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কর্মপন্থা নির্ধারণের কথাও জানান তিনি।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের বিষয়ে শেখ শরীফুল আলম বলেন, “প্রফেসর সায়েম এবং আমরা সমসাময়িক ক্যাম্পাসে বিচরণ করেছি। তিনি একজন ভদ্রলোক এবং ভালো শিক্ষক। এই ক্যাম্পাসের ছাত্ররা তাঁকে ভালোবাসবে, এটা স্বাভাবিক। তিনি একজন রিসোর্সফুল পারসন ও গবেষক। ফলে তাঁকে আমাদের ব্যবহার করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসে আসার আগে সকালে অধ্যাপক সায়েমকে ফোন করেছিলেন। ফোনে না পেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছেন, ‘সায়েম, তোমার সহযোগিতা আমার দরকার, প্রতিষ্ঠানের দরকার। আমরা মিলেমিশে কাজ করব। আমরা একে অপরের এনিমি না।’ অধ্যাপক সায়েমের সঙ্গে তাঁর চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন নতুন উপাচার্য।
শিক্ষার্থীদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে চান। ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের দলকে আসতে বলেছেন এবং তাঁরা এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবেন। যৌক্তিক দাবিগুলো শুনে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং নিজের এখতিয়ারের মধ্যে থাকা বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করার আশ্বাস দেন তিনি।
তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকা ক্লাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একাডেমিক রিকভারি প্ল্যান তৈরির কথাও জানান উপাচার্য। তাঁর মতে, সেমিস্টারের টার্ম ব্রেক কমিয়ে আনা কিংবা দ্রুত ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব।

গতকাল রাত ৮টার দিকে সংবাদমাধ্যমের সামনে নতুন উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাঁদের পক্ষে একজন শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে বলা হয়, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মদুনাঘাট ও বহদ্দারহাট এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, নতুন উপাচার্য ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁর কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁরা সংঘাত বা মানবাধিকার লঙ্ঘন চান না। উপাচার্য পদত্যাগ করলে ভবনের তালা খুলে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যথায় অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাঁকে অবরুদ্ধ রাখা হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, উপাচার্যকে পদত্যাগের চূড়ান্ত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কোনো অপপ্রচার চালানো না যায়। তাঁদের ভাষ্য, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত না নিলে ভবনের ভেতরে অবস্থানের জন্য উপাচার্য নিজেই দায়ী থাকবেন।
এর আগে বিকেলে ভবনের নিচে তালাবদ্ধ ফটকের কাছে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলনকারীরা তাঁর আহ্বানে সাড়া দেননি। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তিনি নিজের কক্ষে ফিরে যান। রাত পর্যন্ত উপাচার্য কিংবা তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ভবনের বাইরে আসেননি। শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকা ঘিরে রাখেন।

নতুন উপাচার্যকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ক্যাম্পাসে আসার পথে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আমীরুল কুদ্দুস চৌধুরী নগরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে করে ক্যাম্পাসে যাচ্ছিলেন। চলমান আন্দোলনে সংহতি জানাতে তিনি যাত্রা করেন।
বাসটি হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় পৌঁছালে সেটি থামানো হয়। পরিস্থিতি দেখতে বাস থেকে নামলে একদল লোক তাঁকে ঘিরে ধরে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ছাত্রলীগ ও শিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ট্যাগ দিয়ে তাঁর জামা ও চুল ধরে টানাটানি করা হয় এবং মারধর করা হয়। তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।
এরপর বিকেলে নগরের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে চুয়েট শিক্ষার্থীদের বহনকারী ‘যমুনা’ নামের একটি বাসে দ্বিতীয় দফায় হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় বাসচালককে মারধর এবং বাসে ভাঙচুর করা হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানান। এসব ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বাত্মক অসহযোগ
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগের প্রতিবাদে চুয়েটের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতি যৌথভাবে প্রতিবাদ জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত জরুরি সভা শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে নবনিযুক্ত উপাচার্যের প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের ঘটনাকে বলপ্রয়োগমূলক উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বহিরাগত ও ছাত্রদল নেতাদের সহযোগিতায় উপাচার্যের এভাবে প্রবেশের ঘটনায় ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার উপাচার্যকে নিতে হবে বলেও সংগঠনগুলো মন্তব্য করে। পূর্বঘোষিত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকা, পূর্ণ কর্মবিরতি এবং সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সভা শেষে বিক্ষোভ মিছিলও বের করেন তাঁরা।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনারকে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা
ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মদুনাঘাট ও বহদ্দারহাট এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাস ও যাত্রাপথে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং বহিরাগতদের ব্যবহার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও উপাচার্য ভবন অবরুদ্ধ করার বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকার নিয়োগ দেওয়ায় নতুন উপাচার্য তাঁর কার্যালয়ে গেছেন। এটি ছাত্র ও শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে আন্দোলনকারীরা কোনো ফৌজদারি অপরাধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন, কমপ্লিট শাটডাউন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি এবং প্রশাসনিক ভবন অবরুদ্ধ থাকার ঘটনায় চুয়েটের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্লাসে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে নতুন উপাচার্য দাবি করলেও আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করা।
অন্যদিকে নতুন উপাচার্য পদত্যাগে রাজি নন বলে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমঝোতা না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কার্যকর উদ্যোগ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
চুয়েটের এই সংকটের সমাধান শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে হয়, নাকি আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নেয়—তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।


More News Of This Category