দেশের স্বার্থেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঐতিহাসিক ছয় দফা বাস্তবায়ন করতে হবে?
ভার্চুয়াল সভায় বক্তাগন হাকিকুল ইসলাম খোকন, গত শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, যুক্তরাজ্য সময় সন্ধ্যা ৬টায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের আহবায়ক ও গবেষক এডভোকেট এএনএম ঈসা ও সঞ্চালনা করেন আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব ও স্পীকার এমএ রউফ।সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল মালেক খান।সভায় সম্মানিত অতিথি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মাঝে বক্তব্য রাখেন কর্নেল (অবঃ)ফেরদৌস আজিজ,আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের উর্দ্ধতন উপদেষ্টা,নিউজ পোর্টাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন সভাপতি,সিনিয়র সাংবাদিক ও লায়ন হাকিকুল ইসলাম খোকন,নিউইয়র্ক প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও জেএসএফ-বাংলাদেশ এর সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন,দৈনিক শব্দ দেশ সম্পাদক আবদুল ওয়াহাব রিংকে,বিশিষ্ট সংগঠক আনোয়ার হোসেন,ড.মালেক ফারাজী,অ্যাডভোকেট মীর সিরাজ উদ্দিন,অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম,মেজর (অব.) ইমরান,ব্রিগেডিয়ার (অবঃ)বায়জিত,সংগঠনের ফ্রান্স কমিটির আহবায়ক ও বিশিষ্ট লেখক মির্জা সুমন,সাব্বির আহমেদ,মুস্তাফির রহমান রিপন ,মোহাম্মদ ফজলুল হক,মোহাম্মদ ফজলুল করিম ,ইসমাইল,বাইজিদ,
আলহাজ আব্দুল মালেক খান,রংধনু নারী ফাউন্ডেশনের সভাপতি লায়ন্সে শাহিদা পারভীন রত্না,প্রধান উপদেষ্টা নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ,ড.শরিফ সাকি ,লায়ন আঃকাদির জিলানী, সোহান,সাব্বির জালাল উদ্দিন,শাহিন তালুকদার,হেলাল উদ্দিন,হেলাল খান,ইসমাইল খান প্রমুখ সহ প্রায় শতাধিক দেশ-বিদেশের বাঙালিরা অংশগ্রহণ করছেন।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ আব্দুল মালেক খান বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সহযোগিতা করা কিংবা তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে না; বরং এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হতে পারে।
রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার সাবেক চলমান
প্রবাসীরা যদি রাষ্ট্রের কাছ থেকে সম্মান, নিরাপত্তা ও আস্থা পান, তাহলে তারা বৈধ পথে অর্থ পাঠানো এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও উৎসাহিত হবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে।
তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকায় বেড়ে ওঠা অনেক প্রবাসী পরিবারের নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে ফিরে আসতে আগ্রহী নয়। এই দূরত্ব কমাতে হলে বাংলাদেশে নিরাপদ, স্বচ্ছ, বিনিয়োগবান্ধব ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “প্রবাসীরা যে নিজেদের বঞ্চনার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন এবং সংগঠিতভাবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করছেন, এটিও ইতিবাচক অগ্রগতি। সমস্যা চিহ্নিত হলেই সমাধানের পথ খোঁজা যায়। ছয় দফার মাধ্যমে যখন প্রধান সমস্যাগুলো সামনে এসেছে, এখন আমাদের দায়িত্ব হলো এগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ বের করা।
তিনি ঘোষণা করেন, “প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফাসহ সকল ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে আমি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাব।
প্রবাসীদের অবদান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা একই সূত্রে গাঁথা।
আলোচনায় রংধনু নারী ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান লায়ন্সে শাহিদা পারভীন রত্না ও প্রধান উপদেষ্টা নাসরিন আক্তার তরফদার রউফ রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবারে সদস্য বাংলাদেশ।
শাহিদা পারভীন রত্না বলছেন আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবারের সদস্য বাংলাদেশ আমাদের বস বাস ।আমাদের ভাই বোন বিদেশে কাজ কর্ম করে।
আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিরো হিরোইন।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, প্রবাসীদের অবদান এবং তাদের অধিকার নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ শুধু একটি পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করে না; গ্রাম ও শহরের ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, আবাসন এবং সামগ্রিক ভোগব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ে।
তাই প্রবাসীদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবারের কল্যাণকে বিচ্ছিন্ন কোনো জনগোষ্ঠীর দাবি হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পেনশন, দক্ষতা ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে সমন্বিত নীতি প্রয়োজন । লায়ন আঃ কাদির জিলানী সোহান ও সাব্বির জালাল উদ্দীন মির্জা সূমন শাহিন তালুকদার হেলাল উদদীন হেলাল খান ইসমাইল খান আলহাজ্ব
ড. শরিফ সাকি প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয়, পেনশন, নিরাপত্তা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রবাসীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, সমস্যাগুলো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একজন কর্মীকে দক্ষ করে বিদেশে পাঠানো গেলে তিনি তুলনামূলক বেশি আয় করতে পারবেন। বিদেশ যাওয়ার খরচ কম হলে ঋণের বোঝা কমবে। নিরাপত্তা থাকলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে এবং পেনশন বা সামাজিক নিরাপত্তা থাকলে দেশে ফিরে একজন প্রবাসী মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবেন।
নজরুল ইসলাম সোহান প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে জনমত তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান
ড. মালেক ফারাজী আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করার জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের দাবিকে একটি কার্যকর জাতীয় দাবিতে রূপ দিতে হলে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং দায়িত্ব বণ্টন আন্দোলনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
“প্রবাসীদের সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি”
কর্নেল ফেরদৌস আজিজ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যেমন বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তেমনি প্রবাসীদের সমস্যাও বহু বছরের। এগুলো একদিনে তৈরি হয়নি এবং একদিনেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।
তবে সমস্যার জটিলতা কোনোভাবেই নিষ্ক্রিয় থাকার অজুহাত হতে পারে না। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে এগোতে হবে।
সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে
অ্যাডভোকেট মীর সিরাজ বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে সম্পদের সীমাবদ্ধতা সবসময়ই ছিল এবং পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই রয়েছে। তাই সীমিত সম্পদের কথা বলে সমস্যাকে ফেলে রাখা নয়, বরং সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করে অগ্রাধিকারভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করাই দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনার পরিচয়।
“প্রবাসীদের জন্য সদিচ্ছাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন”
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, তিনিও একসময় প্রবাসী ছিলেন এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে প্রবাসজীবনের বাস্তবতা কাছ থেকে দেখেছেন।
তিনি বলেন, প্রবাসীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবার ও দেশের জন্য সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেন। অথচ বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রেই তারা প্রত্যাশিত সেবা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা পান না।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের অনেক সমস্যার সমাধানের জন্য সবসময় বিপুল অর্থের প্রয়োজন নেই; প্রশাসনিক সদিচ্ছা, জবাবদিহিতা এবং সম্মানজনক আচরণও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ছয় দফা সরকারের প্রতিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছে দিতে হবে
সাংবাদিক আব্দুল ওহাব রিঙ্কু বলেন, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবি শুধু সভা-সমাবেশে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে লিখিতভাবে দাবিগুলো পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি ছয় দফা দাবি তার নিজস্ব পত্রিকায় প্রকাশ এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
স্বজনপ্রীতি ও অদক্ষতা উন্নয়নের বড় বাধা
মেজর (অব.) ইমরান বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা হচ্ছে স্বজনপ্রীতি। যোগ্যতার পরিবর্তে পরিচয়, সম্পর্ক কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ প্রাধান্য পেলে প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে।
তিনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, রপ্তানি খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা এলেও কাঁচামাল ও অন্যান্য আমদানির জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ আবার বিদেশে ব্যয় হয়। অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের পরিবার ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা জানাতে হবে
ব্রিগেডিয়ার বাইজিদ আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবি সম্পর্কে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, দাবির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারকদের কাছে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হলে পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি তৈরি হবে।
ব্যাংকে প্রবাসীদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
সংগঠনের ফ্রান্স কমিটির আহ্বায়ক মির্জা সুমন প্রবাসীদের ব্যাংক আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কিছু প্রবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে তারা কোনো কোনো ব্যাংক থেকে প্রয়োজনমতো নিজেদের সঞ্চিত অর্থ তুলতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণের বেশি নগদ উত্তোলনেও সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সভা থেকে এসব অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করে আমানতকারীদের বৈধ অর্থের নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
প্রথমে সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে
জনাব সাব্বির আহমেদ বলেন, প্রবাসীদের অসংখ্য সমস্যা একসঙ্গে আলোচনা করলে অনেক সময় অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রধান সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে প্রতিটির জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব করা দরকার।
তিনি বলেন, সমস্যা সঠিকভাবে নির্ণয় করা গেলে সমাধানের পথও অনেক সহজ হয়ে আসে।
দেশের মানুষ ভালো থাকলে প্রবাসীরাও ভালো থাকেন — এম. এ. রউফ
সভা পরিচালনাকালে সদস্য সচিব এম. এ. রউফ বলেন, প্রবাসীরা দেশের বাইরে থাকলেও তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন এবং শিকড় বাংলাদেশে।
তিনি বলেন, “দেশের মানুষ সুখে থাকুক, দেশ শান্তিতে থাকুক—এটাই আমাদের কামনা। বাংলাদেশ ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকি। দেশের ভেতরে অনিয়ম, দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতি দেখলে বিদেশে থেকেও আমাদের কষ্ট হয়।”
তিনি বলেন, প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন পরস্পরের বিরোধী নয়। বরং একটি শক্তিশালী ও প্রবাসীবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সংগঠনের লক্ষ্য।
প্রয়োজন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় — অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা বলেন, মানুষের এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তাই প্রথমেই উপলব্ধি করতে হবে বর্তমান সময়ে প্রবাসীদের প্রকৃত প্রয়োজন কী।
তিনি বলেন, “আমরা উপলব্ধি করেছি যে আমাদের ছয় দফা দাবি এখন প্রবাসীদের মৌলিক ও দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই এই ছয় দফা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের শান্তিপূর্ণ, যুক্তিনির্ভর ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।”
তিনি রেমিট্যান্সে সরকারি নগদ প্রণোদনা ২.৫ শতাংশ থেকে 10 শতাংশে উন্নীত করার দাবি র্ব্যক্ত করেন।
তার যুক্তি হলো, বৈধ পথে দেশে আসা অতিরিক্ত অর্থের একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই ভোগ, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে। অর্থনীতিতে অর্থ যত বেশি লেনদেন ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়, তত বেশি ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং সরকারের কর ও রাজস্ব আহরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, প্রণোদনার হার এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত যাতে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানো প্রবাসীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয় এবং অবৈধ হুন্ডি বা অনানুষ্ঠানিক পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কমে।
একই সঙ্গে তিনি অর্থ পাচার বন্ধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৈধ রেমিট্যান্স উৎসাহিত করা এবং অবৈধ অর্থপাচার প্রতিরোধ—এই দুই নীতিকে পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে।
ছয় দফার পেছনের যুক্তি
সভায় আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের ছয় দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়:
১. স্থায়ী পেনশন ব্যবস্থা: দীর্ঘদিন বিদেশে কাজ করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসীদের বার্ধক্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
২. বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যয় কমানো: দালাল, অতিরিক্ত ফি ও সিন্ডিকেটনির্ভর ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে একজন কর্মী যেন ঋণের বোঝা নিয়ে বিদেশযাত্রা শুরু না করেন।
৩. আধুনিক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ: দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠাতে পারলে একই সংখ্যক প্রবাসী তুলনামূলক বেশি আয় করতে পারবেন, যার সুফল পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতি উভয়ই পাবে।
৪. প্রবাসীদের পূর্ণ নিরাপত্তা: বিদেশে জীবন ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশে তাদের পরিবার, ব্যাংক আমানত, জমি, সম্পদ ও বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৫. প্রবাসী কল্যাণ তহবিল: মৃত্যু, দুর্ঘটনা, অসুস্থতা, চাকরি হারানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক তহবিল গড়ে তোলা।
৬. রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর প্রতিনিধিত্ব: প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সমস্যাগুলো যাতে সরাসরি নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয়, সে জন্য জাতীয় সংসদ ও সরকারে কার্যকর প্রবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
“আমরা শুধু নিজেদের জন্য কথা বলছি না
রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার সংসদ বলেছেন ইন্টারন্যাশনাল টিম
“আমরা এখানে কেউ নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য কথা বলিনি। আমরা দেশের জন্য কথা বলছি, দেশের মানুষের জন্য কথা বলছি এবং ন্যায় ও মানবকল্যাণের কথা বলছি। আমরা চাই আজকের এই সময় ও প্রচেষ্টা মানুষের কল্যাণের কাজে গণ্য হোক।” হাকিকূল ইসলাম খোকন হাজী আনোয়ার
লায়ন মোহাম্মদ আজম খান মেজর ইমরান মিয়া এডভোকেট তাজুল ইসলাম এডভোকেট মির সিরাজ
মুস্তাফির রহমান রিপন
মোহাম্মদ ফজলুল হক। মোহাম্মদ ফজলুল করিম
ইসমাইল ,বাইজিদ রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ শুধু প্রবাসীদের স্বার্থ নিয়েই কথা বলে না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের কল্যাণ, সুশাসন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেসব বিষয়েও সংগঠন আলোচনা ও মতামত প্রদান করে।
তিনি উপস্থিত সকল অতিথি ও বক্তাকে তাদের মূল্যবান পরামর্শ, সহযোগিতা এবং সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ঐক্যবদ্ধভাবে প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার ও বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলহাজ আব্দুল মালেক খানকে
উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ।
সভা শেষে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব এম. এ. রউফ, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ছয় দফাসহ সকল ন্যায়সঙ্গত দাবির পক্ষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ অঙ্গীকার ব্যক্ত করায় আলহাজ্ব মালেক খান সাহেবকে সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানান।আলহাজ আব্দুল মালেক খান এই দায়িত্ব পালনে সম্মতি প্রকাশ করলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এএনএম. ঈসা প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন এবং সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিষয়টি পরবর্তী সাধারণ সভায় উত্থাপনের নির্দেশনা দেন।
সভা শেষে রংধনু নারী ফাউন্ডেশন এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধা সংসদ পরিবার
অ্যাডভোকেট এএনএম. ঈসা বলেন, “প্রবাসীদের শক্তি দেশের শক্তি। প্রবাসীদের নিরাপত্তা দেশের বিনিয়োগের নিরাপত্তা। আর প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা মানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা। আমরা দেশের ক্ষতি করে কিছু চাই না; দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই আমাদের ছয় দফা বাস্তবায়ন চাই।”
সকলকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।