নিজস্ব সংবাদদাতা
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, কোন দেশের উন্নতিতে সুশিক্ষার অবদান অতুলনীয। কিন্তু এই শিক্ষাঙ্গনে যদি চলে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার তাহলে এই শিক্ষার মান ও গুরুত্ব কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে এই প্রশ্ন গোটা জাতির। সম্প্রতি এমন নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহী অঞ্চলের বর্তমান পরিচালক প্রফেসর মোঃ আছাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে।
জানা যায় যে তিনি সরজমিনে নওগাঁ জেলার বালাতৈড় সিদ্দিক হোসেন ডিগ্রী কলেজ, নিয়ামতপুর নওগাঁতে গত ২২/৪ /২০২৫ তারিখে সরজমিনে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের দুর্নীতিবাজ সাবেক সহকারী পরিচালক আলমাস উদ্দিন এবং বর্তমান কর্মরত গবেষণা কর্মকর্তা জসিম কে সঙ্গে নিয়ে অত্র কলেজে অধ্যক্ষের অনিমের বিরুদ্ধে তদন্তে গিয়ে কলেজের ডিগ্রী শাখায় কাগজ কলমে ভুয়া পাঁচজন শিক্ষকের প্রমাণ পান। ভুয়া শিক্ষকগণ হলেন বাংলায় মানিক, ইংরেজিতে রাজিব চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে জাকির, দর্শনে কামাল হোসেন এবং ভূগোলে আবু রায়হান।
জানা যায় যে বালাতৈড় সিদ্দিক হুসেন ডিগ্রী কলেজের দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মোঃ আমজাদ হোসেন সরকারী নিয়োগ বোর্ড টেম্পারিং করে তথা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের গত ২৮/৬/২০১৫ সালের চিঠি টেম্পারিং করেন, ডিজির প্রতিনিধির গত ২৬/ ৭/ ২০১৫ সালের চিঠি টেম্পারিং করেন, গত ৩১/৭/২০১৫ সালের নিয়োগ বোর্ডের সি এস কপি টেম্পারিং করেন এবং গত ২২/৮/২০১৫ সালের কলেজ গভর্নিং বডির রেজুলেশন টেম্পারিং ও মূল তথ্য পরিবর্তন করে অসত্য তথ্য প্রদান করে ভুয়া রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন অত্র কলেজের অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন। এইসব জালিয়াতি করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অধ্যক্ষ অত্র কলেজে ডিগ্রি শাখায় পাঁচজন অবৈধ ও ভুয়া শিক্ষক নিয়োগ দেন। যা একাধিক সরকারি তদন্তে ধরা পড়ে এবং মাউশি অধিদপ্তরের শুনানি কালে সুস্পষ্ট অধ্যক্ষের উক্ত সকল জালিয়াতি ও অনিয়মগুলো প্রমাণ হয় এবং মাউশি অধিদপ্তর কর্তৃক অধ্যক্ষর বেতন বন্ধ করে দেন। অধ্যক্ষের এমন সকল জালিয়াতি গত ২২/ ৪/ ২০২৫ তারিখে পরিচালক প্রফেসর মোঃ আছাদুজ্জামান সরজমিনে কলেজে গিয়ে সকল জালিয়াতির প্রমাণ পান। তদন্তের সময় পরিচালক বলেন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিধিগত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভুয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে পুরোটা উল্টো চিত্র দেখা যায়। পরিচালক মহোদয় এবং সাবেক সহকারী পরিচালক আলমাস উদ্দিন কলেজ থেকে তদন্ত করে আসার কয়েক মাস পরেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং অধ্যক্ষের অনিয়মের পক্ষ নিয়ে গোপনে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্যের বিনিময়ে বিধি বহির্ভূতভাবে এবং ক্ষমতার অবব্যবহার করে ভুয়া শিক্ষক মোঃ কামাল হোসেন দর্শন বিভাগ সহ একাধিক ভুয়া শিক্ষকের বেতন ভাতা চালু করে দেন অর্থলোভী ও দুর্নীতিবাজ পরিচালক। যা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর শামিল। আরো জানা যায় যে দুর্নীতিবাজ এই পরিচালক অনেক বৈধ শিক্ষকের বেতনের ফাইল দীর্ঘদিন ধরে নিজ কার্যালয়ে আটকে রেখেছেন।
উক্ত অনিয়মগুলো জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ এর ১৭.৯ ১৮.১ এর গ এবং ও ধারায় সুস্পষ্ট শাস্তি প্রমাণ আছে যে উক্ত অনিয়ম গুলো উল্লেখ রয়েছে। ধারা অনুযায়ী উক্ত অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সকল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উক্ত ধারা অনুযায়ী পরিচালক অনিমের সঙ্গে জড়িত এবং বিধি মোতাবেক শাস্তির আওতায় পড়ে তা সুস্পষ্ট প্রমাণ করে।
আরো জানা যায় যে রাজশাহী বিভাগের অনেক কলেজের বেশ অনেক শিক্ষকগণ বর্তমান পরিচালক এবং সাবেক সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রমাণক সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন এবং সরকারি তদন্ত হয়। রাজশাহী বিভাগের শিক্ষক সমাজ এবং সুশীল সমাজগণ শিক্ষাঙ্গনে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ও বজায় রাখতে বর্তমান পরিচালক প্রফেসর আছাদুজ্জামানের দ্রুত অপসারণ দাবি করছেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট।