শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
Headline :
১৫ নভেম্বরের মধ্যেই মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বরপ্লেট লাগানো বাধ্যতামূলক পদ্ম ফুলের সৌন্দর্যের নীলাভূমি নাগেশ^রীর ডাকনিরপাট পদ্মবিল প্রথম স্ত্রীর কথা জানার পরিণতি, পরিকল্পিত হত্যার শিকার শিকলবাহার জান্নাতুল পানছড়িতে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিজিবির ড্রোন নজরদারি ও সার্বক্ষণিক টহল মহপরিচালক বরাবর পলাশবাড়ী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার দূর্ণীতির অভিযোগকারীকে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানোর অভিযোগ বিয়ের আগের দিনই বরের মৃত্যু: গাইবান্ধায় আনন্দ ঘেরা দুই পরিবারে হঠাৎ শোকের ছায়া কালভার্ট আছে, সড়ক নেই: নীলফামারীতে দুই ইউনিয়নের হাজারো মানুষের চরম ভোগান্তি রাণীশংকৈলে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার। বীরগঞ্জে বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন কালিয়াকৈরে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ফলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে চরম ভোগান্তিতে নিম্নবিত্ত পরিবার

জীবনে একসঙ্গে এত মাংস পাইনি— ঈদের আনন্দে ভাসলেন আমতলীর বকফুল বেগম‌।

Update : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

মাইনুল ইসলাম রাজু,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি, বাংলার সংবাদ।

“জীবনে একসঙ্গে এত মাংস পাইনি।” কথাগুলো বলার সময় আনন্দ আর আবেগে ভরে উঠেছিল বকফুল বেগমের কণ্ঠ। দুই কেজি কুরবানির মাংস হাতে পেয়ে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। বারবার মাংসের প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলছিলেন, “এত্ত মাংস!”

বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা বকফুল বেগম (৬৫) একজন প্রতিবন্ধী নারী। ছেলেরা দূরে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই বসবাস করছেন। দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে তাঁর দিন কাটে। অনেক সময় খেয়ে-না-খেয়ে জীবনযাপন করতে হয় এই অসহায় বৃদ্ধাকে। বেঁচে থাকার সংগ্রামই যেন তাঁর জীবনের নিত্যসঙ্গী।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কুরবানির মাংস বিতরণ কর্মসূচির জন্য মাঠপর্যায়ে পরিচালিত জরিপে বকফুল বেগমকে উপকারভোগী হিসেবে প্রাথমিক তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন না থাকায় চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করতে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। পরে প্রতিবেশীর একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তাঁকে চূড়ান্ত উপকারভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিতরণের দিন হাতে দুই কেজি কুরবানির মাংস পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বকফুল বেগম। তিনি জানান, জীবনে কখনও একসঙ্গে এত পরিমাণ কুরবানির মাংস পাননি। এই সহায়তা তাঁর ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বকফুল বেগম বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি এত মাংস পাব। জীবনে একসঙ্গে এত মাংস কোনোদিন পাইনি। আল্লাহ যারা দিয়েছে তাদের ভালো রাখুক।”

ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমতলীর বিভিন্ন গ্রামের অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়। বকফুল বেগমের মতো অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে কাজ করছে সংস্থাটি।

ইসলামিক রিলিফের প্রতিনিধি সাগর চন্দ্র হাওলাদার বলেন, “গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে বকফুল বেগমের মতো অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের হাতে কুরবানির মাংস পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ঈদের আনন্দ যখন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে যায় না, তখন বকফুল বেগমের মতো একজন অসহায় নারীর মুখের হাসিই মানবিকতার সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প হয়ে ওঠে। তাঁর একটি বাক্য—“জীবনে একসঙ্গে এত মাংস পাইনি”—দারিদ্র্যের বাস্তবতা যেমন তুলে ধরে, তেমনি মানবিক সহায়তার গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়।


More News Of This Category