শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
Headline :
লালমনিরহাটে অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব পরিবার, পাশে দাঁড়ালেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। দিন কাটে স্কুলে, রাত কাটে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গৃহহীন নাঈমের স্বপ্ন -পড়াশোনা করে একদিন মানুষ হবে। মাদরাসা নিবন্ধন নীতির প্রতিবাদে ১০ দফা দাবিতে ইসলামী সংগঠনগুলোর সমাবেশ। গাইবান্ধা আদালত প্রাঙ্গণের প্রধান ফটকে হামলার অভিযোগ, সরকারি বালক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ট্রেইনারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। এদিকে ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “আগামী রোববার ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধর্মপাশা উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হত্যা

জীবনে একসঙ্গে এত মাংস পাইনি— ঈদের আনন্দে ভাসলেন আমতলীর বকফুল বেগম‌।

Update : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

মাইনুল ইসলাম রাজু,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি, বাংলার সংবাদ।

“জীবনে একসঙ্গে এত মাংস পাইনি।” কথাগুলো বলার সময় আনন্দ আর আবেগে ভরে উঠেছিল বকফুল বেগমের কণ্ঠ। দুই কেজি কুরবানির মাংস হাতে পেয়ে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। বারবার মাংসের প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলছিলেন, “এত্ত মাংস!”

বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা বকফুল বেগম (৬৫) একজন প্রতিবন্ধী নারী। ছেলেরা দূরে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি একাই বসবাস করছেন। দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে তাঁর দিন কাটে। অনেক সময় খেয়ে-না-খেয়ে জীবনযাপন করতে হয় এই অসহায় বৃদ্ধাকে। বেঁচে থাকার সংগ্রামই যেন তাঁর জীবনের নিত্যসঙ্গী।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের কুরবানির মাংস বিতরণ কর্মসূচির জন্য মাঠপর্যায়ে পরিচালিত জরিপে বকফুল বেগমকে উপকারভোগী হিসেবে প্রাথমিক তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন না থাকায় চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করতে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। পরে প্রতিবেশীর একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তাঁকে চূড়ান্ত উপকারভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিতরণের দিন হাতে দুই কেজি কুরবানির মাংস পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বকফুল বেগম। তিনি জানান, জীবনে কখনও একসঙ্গে এত পরিমাণ কুরবানির মাংস পাননি। এই সহায়তা তাঁর ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বকফুল বেগম বলেন, “আমি ভাবতেই পারিনি এত মাংস পাব। জীবনে একসঙ্গে এত মাংস কোনোদিন পাইনি। আল্লাহ যারা দিয়েছে তাদের ভালো রাখুক।”

ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের এ কর্মসূচির মাধ্যমে আমতলীর বিভিন্ন গ্রামের অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের মাঝে কুরবানির মাংস বিতরণ করা হয়। বকফুল বেগমের মতো অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে কাজ করছে সংস্থাটি।

ইসলামিক রিলিফের প্রতিনিধি সাগর চন্দ্র হাওলাদার বলেন, “গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে বকফুল বেগমের মতো অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের হাতে কুরবানির মাংস পৌঁছে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

ঈদের আনন্দ যখন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে যায় না, তখন বকফুল বেগমের মতো একজন অসহায় নারীর মুখের হাসিই মানবিকতার সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প হয়ে ওঠে। তাঁর একটি বাক্য—“জীবনে একসঙ্গে এত মাংস পাইনি”—দারিদ্র্যের বাস্তবতা যেমন তুলে ধরে, তেমনি মানবিক সহায়তার গুরুত্বও স্মরণ করিয়ে দেয়।


More News Of This Category