এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
মীরসরাইয়ে নুরুল আমিন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বট বাহিনী-কট বাহিনী এবং মীরসরাই নিউজ ডেস্ক-টেস্ক সহ প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর লিখনির ওই রকম সব কিছু উদাও হয়ে গেছে!
সেই সাথে বিএনপি’র অতি উৎসাহী নেতা কর্মী নামধারীদের মুখ ও বন্ধ হয়ে গেছে! সাবেক নুরুল আমিন চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে নুরুল আমিন এমপি সহ বিএনপি’র যে সব নেতা কর্মীদের ঘায়েল করার জন্য অবিরাম লিখছিলো তারা এখন নুরুল আমিন এমপি’র ডান হাত-বাম হাতের দ্বারে কাছে ও ঘুরতে দেখা যায়/যাচ্ছে!
এ ছাড়া যে সব বিএনপি’র নেতা কর্মী নামধারীদের বিরুদ্ধে লিখে দলের বারোটা-তেরোটা বাজিয়ে দেয়ার দুরভিসন্ধিতে লিপ্ত ছিলো তারা ও এখন ওই সব নেতা-কর্মী নামধারীদের সাথে হাসৌল্লাসে চলাফেরা এবং খাওয়া দাওয়া সহ সব কিছু দৃষ্টির সীমারেখায় আবদ্ধ হচ্ছে।
বলতে দ্বিধা নেই যে, উত্তর চট্টগ্রামের এই মীরসরাই উপজেলায় বিগত আওয়ামী জামানায় সাংবাদিক নামধারী কতোগুলো দালাল, চাটুকার এবং চাঁদাবাজ আওয়ামী লীগের নেতাদের বোগলতলে থেকে বিএনপি এবং ওই দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অবিরাম লিখে গেছে। বিশেষ করে আজকে যিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে মীরসরাইবাসীর নের্তৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন সেই নুরুল আমিন এর বিরুদ্ধে কি লিখেনি তা কি দলের কোনো নেতা-কর্মী বা স্বয়ং নুরুল আমিন এমপি ও কি বড় গলায় বলতে পারবেন?
অথচ, এখন কেনো তাদের সাথে দলের ওই সব নেতা-কর্মী নামধারী সুযোগ সন্ধানী ব্যাক্তি বিশেষ বা নুরুল আমিন এমপি’র সাথে ও সভ্যতা বিদ্যমান?
দলের একাধিক নেতা-কর্মী জানান- দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী এবং নুরুল আমিন এমপি’র বিরুদ্ধে ঢালাও ভাবে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে অবিরাম লিখেছিলো ‘মিরসরাই নিউজ ডেস্ক’ নামক একটি ফেইজবুক পেজ। ওই পেজ এর এডমিন/মডারেটর কে এবং কারা তার সঠিক পরিচয় উদঘাটন করতে না পারলে প্রতিবাদী ভুমিকা নিয়ে সোচ্চার ছিলো হাজারো নেতা-কর্মী। এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ওই সব লিখনির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সময়মতো খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার হুংকার ছড়ালে ও কেনো জানি তারা ও এখন নিরব নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকজন আওয়ামী দালালরা সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করতে গিয়ে বর্তমান এমপি নুরুল আমিন এবং তির দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মী সহ তার নিকটজনের বিরুদ্ধে ও লিখতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনি অথচ, তারা ও এখন এমপি নুরুল আমিন এর ধারে কাছে দেখা যায়/যাচ্ছ! এ ছাড়া ও ওই সব সাংবাদিক নামধারীর বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের যে সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে লিখেছিলো অবিরাম তারা এখন ওই সব নেতা-কর্মীদের সাথে একসাথে চলাফেরা এবং খাওয়া দাওয়া সহ প্রায় সব সুবিধা হাতিয়ে নিতে দেখা যাচ্ছ (!) কি ভাবে? সাংবাদিক নামধারী ওই সব ব্যাক্তিরা যে সুবিধাবাদী তা কমবেশি প্রায় সবাই জানেন। তারা বিগত বিএনপি’র ক্ষমতা কালীন সময়ে ছিলো বিএনপি’র নেতা- কর্মীদের দালাল-চাটুকার। এবং তার পর বিএনপি ক্ষমতা থেকে চলে গেলে তাদেরকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ক্ষমতায় আসার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দালাল-চাটুকার হয়ে যায়। এর পর গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটার পর তারা তাদের পূর্ব অভ্যাস বশত: আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ছুড়ে ফেলে দিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের দালাল-চাটুকার হিসেবে আবির্ভূত হয়ে সাংবাদিকতা পেশাকে একেবারেই নর্দমার ডাস্টবিনে ফেলে দেয়ার অবস্থা সৃষ্টি করায় সর্বমহল থেকে নিন্দা ও ধিক্কার কুড়িয়ে নিচ্ছে। পিছনের দিকে তাকালে ষষ্ঠতত: হবে যে, বিগত সময়ে ওই সব সাংবাদিক নামধারী ব্যাক্তিরা মীরসরাইয়ের আওয়ামী দলীয় এমপি এবং পরে তৎ সরকারের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর সাথে দালাল-চাটুকারীতে মত্ত থেকে কি না করেছিলো? এ ছাড়া তার পর ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর পুত্র মাহবুবুর রহমান রুহেল এর কাছ থেকে কি রকম সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিয়ে আঙুল পুলে কলাগাছ বনে যাওয়ার সামিল হয়ে আজ কোন্ সাংবাদিক কতো লক্ষ-কোটি টাকার মালিক?
আর আগের কথা বাদ দিলে ও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছর এবং অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের সময় সহ বিগত ২০ বছর যাবত শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার পরও দালালী-চাটুকারী, ধান্দাবাজি- চাঁদাবাজি সহ সাংবাদিকতার নামে নানাবিধ: অপকর্ম থেকে নিজেকে দুরে সরিয়ে রাখতে গিয়ে মীরসরাইতে কোন্ সাংবাদিক এখনো চরম অভাব- অনটনের মধ্যে দিয়ে দিন-রজনী পার করে যাচ্ছেন তা কি খতিয়ে দেখবেন কেউ? মীরসরাই উপজেলায় আজকে যে বা যারা সাংবাদিকতার নামে লক্ষ-লক্ষ-কোটি টাকার মালিক তাদের পুর্বাবস্থা কি ছিলো এবং তাদের পারিবারিক পরিচিতি কি তা অনেকেই জানেন। এমন কি এই প্রতিবেদকের কাছে প্রায় সব কিছু সংরক্ষিত রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হিসেব কষে দেখলে অতি সহজেই বের করে নিতে পারবেন অতিত সময় আর বর্তমান সময়তে কে, কে সাংবাদিকতার নামে লাখোপতি-কোটিপতি বনে গিয়ে আরাম আয়েসী জীবন যাপন করে যাচ্ছে।