সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন
Headline :
লিচু দেওয়ার প্রলোভনে শিশুকে ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, বখাটে যুবক গ্রেফতার। যেসব কারণে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদের মান-মর্যাদা। রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি’র অভিযানে মিঠাপুকুরে ৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ০১ (এক) জন মাদক কারবারি আটক রুবিওর দিল্লি সফরে ট্রাম্পের ফোন: ‘ভারত যা চায় তাই পাবে’ — বাংলাদেশ ইস্যুতে কী বোঝাপড়া? মুজিব বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও দালিলিক প্রমান। প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের শোক প্রকাশ জিয়ার হ্যাঁ/না ভোটরঙ্গ : ভোটারদের অভিজ্ঞতার আলোকে ভারতে চামড়া পাচার রোধে হিলি সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, টহল জোরদার। আমতলীতে ৬৯৯ পরিবারের মাঝে ইসলামিক রিলিফের কুরবানির মাংস বিতরণ।

ঘুমন্ত শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যা: আটক মা

Update : সোমবার, ২ জুন, ২০২৫
ঘুমন্ত শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যা: আটক মা

পাবনা প্রতিনিধিঃ

পাবনার চাটমোহরে পাঁচ মাস বয়সী ঘুমন্ত কন্যাশিশুকে নদীতে ফেলে হত্যার পর নিখোঁজ নাটক সাজান মা শ্রাবন্তী বিশ্বাস। ঘটনার পর কান্নাকাটি করে নিজেই থানায় গিয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন। তবে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ সত্য এই হত্যা করেছেন তিনিই। ঘটনাটি ঘটেছে চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা ইউনিয়নের জালেশ্বর গ্রামে। নিহত শিশু সোহাগী রানী ওই গ্রামের কমল মন্ডল ও শ্রাবন্তী বিশ্বাস দম্পতির সন্তান।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (৩১ মে) সকালে শ্রাবন্তী বিশ্বাস তার শিশুকে বাড়ির উঠানে চৌকিতে শুইয়ে রেখে পাশের বাড়িতে খড় আনতে যান। ফিরে এসে মেয়েকে খুঁজে না পাওয়ার কথা বলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ির পাশের বড়াল নদীতে উপুড় হয়ে থাকা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয়। পরিবার ও এলাকাবাসীর সামনে কান্নাকাটি করেন শ্রাবন্তী, এমনকি নিজেই থানায় গিয়ে হত্যার মামলা দায়ের করতে চান। কিন্তু তার কথাবার্তায় অসামঞ্জস্য দেখা দিলে পুলিশ গভীর তদন্তে নামে।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, “শিশু নিখোঁজ হওয়ার সময় ও মায়ের বর্ণনায় কিছু অসংগতি আমাদের নজরে আসে। এ কারণে তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে সে স্বীকার করে শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় নদীতে ফেলে দিয়েছেন তিনি নিজেই।”

চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আরজুমা আক্তার সোমবার (২ জুন) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “শ্রাবন্তী বিশ্বাস স্বীকার করেছেন যে পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক অস্থিরতার কারণে তিনি মেয়েকে হত্যা করেছেন।

পরবর্তীতে নিজেকে আড়াল করতে নিখোঁজ নাটক সাজিয়ে বিচার চাওয়ার অভিনয় করেন। এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা কমল মন্ডল বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রবিবার (১ জুন) শ্রাবন্তী বিশ্বাসকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি শিশুর মৃত্যু নয় এটি সমাজে গভীর পারিবারিক সংকট ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


More News Of This Category