গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ খাদ্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ খাদ্যগুদামে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ ধান ও চাল সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, নীতিমালা লঙ্ঘন এবং আগাম বিল-ভাউচার করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মিল মালিক, তালিকাভুক্ত কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।
অভিযোগে বলা হয়, সিদ্ধ চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতি টনে ৫০০ টাকা এবং আতপ চালের ক্ষেত্রে প্রতি টনে ৩০০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হচ্ছে। এছাড়া অফিসের অন্যান্য কর্মচারীদেরও বকশিশ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন মিল মালিক। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, এসব অর্থ পরিশোধ না করলে নানা অজুহাতে চাল গ্রহণে বিলম্ব বা জটিলতা সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মহিমাগঞ্জ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুর আলম ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই অবৈধ অর্থ আদায় করছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, চলতি মৌসুমে সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি অবৈধ অর্থ আদায় করা হয়েছে।
ধান সংগ্রহ নিয়েও রয়েছে একাধিক অভিযোগ। তালিকাভুক্ত কৃষকদের দাবি, প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রতি কেজি ধানের বিপরীতে ১ টাকা ৫০ পয়সা, অর্থাৎ প্রতি টনে ১,৫০০ টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে ধান ফেরত দিয়ে হয়রানি করা হয়।
এছাড়া, সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার আগেই আগাম বিল-ভাউচার প্রস্তুতের অভিযোগও উঠেছে, যা সরকারি সংগ্রহ নীতিমালার পরিপন্থী বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। সচেতন মহলও বিষয়টিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে জরুরি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে মহিমাগঞ্জ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুর আলমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।