কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রপাড়ে চর দখল নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১
উভয় পক্ষের আহত ৮, একটি বাড়িতে আগুন
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আহতদের উদ্ধার করে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদেরপাড়ের গোয়ালের চর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত কৃষক হলেন হুরমুজ আলী (৬৫)। তিনি গোয়ালের চর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়রা তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নয়ারহাট ইউনিয়নের সেলিম হোসেন ও তোতা মিয়ার পক্ষের মধ্যে চরের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে তিনটি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি একটি মামলায় সেলিম হোসেনের পক্ষে রায় হয়। ওই রায়ের পর বৃহস্পতিবার সকালে সেলিম হোসেনের লোকজন বিরোধপূর্ণ জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় হুরমুজ আলী গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত হুরমুজ আলী সেলিম হোসেনের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে ওই জমিতে গিয়েছিলেন।
সেলিম হোসেন বলেন, “আমি মামলার রায় পেয়েছি। তাই জমি চাষ করার জন্য ঘটনাস্থলে যাই। আমার সঙ্গে কয়েকজন আত্মীয় ও গ্রামবাসী ছিলেন। নিহত হুরমুজ আলী আমার আত্মীয়। আহতদের মধ্যে ছয়জনই আমার পক্ষের লোক। যে বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেটিও আমার পক্ষের একজনের।”
তবে সেলিম হোসেনের এ দাবি অস্বীকার করেছেন অপর পক্ষের তোতা মিয়া। তিনি বলেন, “হুরমুজ আলী আমাদের পক্ষের লোকজনের আঘাতে মারা যাননি। সেলিমের পক্ষের লোকজনের আঘাতে আহত হওয়ার পর তিনি মারা গেছেন। এখন এ হত্যার দায় আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে।”
তোতা মিয়া আরও বলেন, “নিম্ন আদালত থেকে রায় পেলেই জমির মালিক হওয়া যায় না। আমরা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। এছাড়া ওই জমি নিয়ে আরও দুটি মামলা চলছে। সেলিম ও তার লোকজন অবৈধভাবে জোর করে জমি দখল করতে গিয়েছিলেন।”
চিলমারী উপজেলার ঢুষমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম আর সাঈদ বলেন, চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।”