বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন
Headline :
সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক এনামুল হকের ৪৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন মোঃ ফেরদৌস হোসেন অপুষ্টি রোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান, সাঘাটায় পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সভা মোঃ মেহেদী হাসান স্টাফ রিপোর্টারঃ সিরাজগঞ্জে সাংবাদিক এনামুল হকের ৪৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি, সৌদি প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা ও দালালমুক্ত পরিবেশ গঠনে ‘সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম’-এর অঙ্গীকার নর্থ ওয়েস্ট ওভারসীজ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সরকারি নির্দেশনা অমান্য দেহব্যবসার জেরে খুলনায় ইজিবাইক চালক হত্যা ( দৈনিক বাংলার সংবাদ ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ সোহেল রানা ) বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে রয়েছে সরকার: বান্দরবানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি শ্রীবরদীতে জিয়া খাল উদ্ধার ও পুনঃখনন চাই এলাকাবাশী বাঁশী গাইবান্ধায় বাক-প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার

আজ ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী দিবস

Update : সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫
আজ ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী দিবস

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আজ ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী দিবস যা ২৬৮ বছর পূর্বে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধে স্বাধীন বাংলার নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়।ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।

আরও পড়ুনঃ সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনায় কাজ করুন” — জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম

এই দিনটি শুধু একটি যুদ্ধের দিন নয়, বরং এটি ছিল বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্যাস্ত। পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত যুদ্ধটি আমাদের ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র, দুর্ভিক্ষ ও উপনিবেশিক শাসনের নির্মম শিকল পরার শুরুর দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে। যুদ্ধটি ছিল মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের লড়াই। যদিও নবাবের সৈন্যসংখ্যা ছিল অনেক বেশি, তথাপি বিজয় অর্জন সম্ভব হয়নি।

এই পরাজয়ের পেছনে ছিল একটি ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা। নবাবের সেনাপতি মীর জাফর, ধনকুবের জগৎ শেঠ, এবং কূটকৌশলী রায় দূর্লভ ও ওমিচাঁদ — এরা ব্রিটিশদের সঙ্গে গোপন সন্ধি করে সিরাজউদ্দৌলাকে বিভ্রান্ত ও একঘরে করে ফেলেন।

ইতিহাস জানায়, মীর জাফর পরে নিজেই ব্রিটিশদের রোষানলে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং নির্জন একাকীত্ব ও লজ্জায় তার মৃত্যু ঘটে। বাকিরাও বিভিন্নভাবে অপমানিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হন। ইতিহাস কখনো বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করে না — তাদের পরিণতি হয় সর্বদা করুণ।

পলাশীর যুদ্ধের মাত্র এক দশক পরেই ১৭৬৯-৭০ সালে বাংলায় ঘটে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ১০ মিলিয়ন (এক কোটির বেশি) মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। যেখানে পলাশীর পূর্বে বাংলা ছিল বিশ্বের জিডিপির প্রায় ১৪% যোগানদাতা, সেখানে এই যুদ্ধের ১২-১৫ বছরের মধ্যেই বাংলা পরিণত হয় ক্ষয়িষ্ণু, নিঃস্ব ও মৃতপ্রায় ভূমিতে।

ব্রিটিশরা বাংলা থেকে সম্পদ শুষে নিয়ে নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তাঁতশিল্প ধ্বংস করে দেওয়া হয়, কৃষকদের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। মনে করা হয়, পলাশীর যুদ্ধই ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ উপনিবেশের মূল ভিত্তি স্থাপন করে দেয়।

পলাশী দিবস শুধুমাত্র অতীত স্মরণের দিন নয় — এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ঐক্যহীনতা, নেতৃত্বহীনতা, ও বিশ্বাসঘাতকতার কী নির্মম মূল্য দিতে হয় — তারই চরম দৃষ্টান্ত পলাশী।

আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক — নিজের মাটি, নিজের ইতিহাস, ও নিজের অধিকার রক্ষায় একতাবদ্ধ থাকা।

 

প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।১৭৫৭ সালের এইদিনে নদিয়া জেলার পলাশীর প্রান্তরে রবার্ট ক্লাইভ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ চক্র এই কালো দিবসের জন্ম দেয়।


More News Of This Category