বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
Headline :
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি থানা পুলিশ কর্তৃক সিআর পরোয়ানাভু্ক্ত ০১ জন আসামী গ্রেফতার। শিরোনাম:* লিজা আক্তারের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত গজীপুর জেলার কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ফ্যান উপহার গাইবান্ধায় জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রংপুরে ১৭ তরুণীর হাতে বিনামূল্যে ল্যাপটপ হস্তান্তর: চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ১২ নং খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার ৭ নং এলাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ খান

আজ ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী দিবস

Update : সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫
আজ ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী দিবস

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

আজ ২৩ জুন ঐতিহাসিক পলাশী দিবস যা ২৬৮ বছর পূর্বে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধে স্বাধীন বাংলার নবাব ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হয়।ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।

আরও পড়ুনঃ সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনায় কাজ করুন” — জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম

এই দিনটি শুধু একটি যুদ্ধের দিন নয়, বরং এটি ছিল বাংলার স্বাধীনতার শেষ সূর্যাস্ত। পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত যুদ্ধটি আমাদের ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র, দুর্ভিক্ষ ও উপনিবেশিক শাসনের নির্মম শিকল পরার শুরুর দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে। যুদ্ধটি ছিল মূলত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের লড়াই। যদিও নবাবের সৈন্যসংখ্যা ছিল অনেক বেশি, তথাপি বিজয় অর্জন সম্ভব হয়নি।

এই পরাজয়ের পেছনে ছিল একটি ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা। নবাবের সেনাপতি মীর জাফর, ধনকুবের জগৎ শেঠ, এবং কূটকৌশলী রায় দূর্লভ ও ওমিচাঁদ — এরা ব্রিটিশদের সঙ্গে গোপন সন্ধি করে সিরাজউদ্দৌলাকে বিভ্রান্ত ও একঘরে করে ফেলেন।

ইতিহাস জানায়, মীর জাফর পরে নিজেই ব্রিটিশদের রোষানলে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হন এবং নির্জন একাকীত্ব ও লজ্জায় তার মৃত্যু ঘটে। বাকিরাও বিভিন্নভাবে অপমানিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হন। ইতিহাস কখনো বিশ্বাসঘাতকদের ক্ষমা করে না — তাদের পরিণতি হয় সর্বদা করুণ।

পলাশীর যুদ্ধের মাত্র এক দশক পরেই ১৭৬৯-৭০ সালে বাংলায় ঘটে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ১০ মিলিয়ন (এক কোটির বেশি) মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। যেখানে পলাশীর পূর্বে বাংলা ছিল বিশ্বের জিডিপির প্রায় ১৪% যোগানদাতা, সেখানে এই যুদ্ধের ১২-১৫ বছরের মধ্যেই বাংলা পরিণত হয় ক্ষয়িষ্ণু, নিঃস্ব ও মৃতপ্রায় ভূমিতে।

ব্রিটিশরা বাংলা থেকে সম্পদ শুষে নিয়ে নিজেদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তাঁতশিল্প ধ্বংস করে দেওয়া হয়, কৃষকদের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। মনে করা হয়, পলাশীর যুদ্ধই ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ উপনিবেশের মূল ভিত্তি স্থাপন করে দেয়।

পলাশী দিবস শুধুমাত্র অতীত স্মরণের দিন নয় — এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ঐক্যহীনতা, নেতৃত্বহীনতা, ও বিশ্বাসঘাতকতার কী নির্মম মূল্য দিতে হয় — তারই চরম দৃষ্টান্ত পলাশী।

আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক — নিজের মাটি, নিজের ইতিহাস, ও নিজের অধিকার রক্ষায় একতাবদ্ধ থাকা।

 

প্রতি বছর সে জন্য ২৩ জুন পলাশী দিবস হিসাবে পালিত হয়।১৭৫৭ সালের এইদিনে নদিয়া জেলার পলাশীর প্রান্তরে রবার্ট ক্লাইভ, মীরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ চক্র এই কালো দিবসের জন্ম দেয়।


More News Of This Category