গাইবান্ধার বল্লমঝাড়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৭-এর উদ্বোধন।
মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় উৎসাহ ও সচেতনতার আহ্বান চেয়ারম্যানের
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৫ নম্বর বল্লমঝাড় ইউনিয়নে শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৭-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ক্রীড়া কার্যক্রমে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ জন শিশু অংশগ্রহণ করে। শিশুদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
বল্লমঝাড় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ ক্রীড়া কার্যক্রমে সাঁতার, ফুটবল ও ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন রাখা হয়। এসব খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুরা নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৭-এর শুভ উদ্বোধন করেন বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জুলফিকার রহমান। এ সময় সাবেক সরকারি শিক্ষক একরামুল মাস্টারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান মো. জুলফিকার রহমান শিশুদের খেলাধুলার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়েও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। অপরিচিত কোনো ব্যক্তি শিশুদের কিছু খেতে দিলে বা কোনো খাবার, উপহার কিংবা অন্য কোনো জিনিস দিতে চাইলে তা গ্রহণ না করার জন্য শিশুদের বুঝিয়ে বলতে হবে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা কোনো জিনিস গ্রহণ না করে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মা, শিক্ষক কিংবা বিশ্বস্ত অভিভাবককে জানাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলারও প্রয়োজন রয়েছে। খেলাধুলা শিশুদের শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে। তাই শিশুদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলের শিশু-কিশোরদের মধ্যে অনেক প্রতিভা থাকলেও যথাযথ সুযোগ ও পরিচর্যার অভাবে অনেকেই নিজেদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পায় না। এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন শিশুদের সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক পরিবেশে বেড়ে ওঠার পথ সুগম করা সম্ভব।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৭-এর এ আয়োজন শিশুদের মধ্যে ক্রীড়া চর্চা বৃদ্ধি, প্রতিভা অন্বেষণ এবং সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।