হাতীবান্ধায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ, দোকানিকে ঘিরে অভিযোগ।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বোর্ডের হাট বাজারে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের ‘জিল্লুর স্টোর’-এর মালিক জিল্লুর রহমানের দোকানকে কেন্দ্র করে কয়েকজন তরুণ অনলাইন বেটিং ও জুয়ার সাইটে যুক্ত হচ্ছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে জুয়ায় যুক্ত করার অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, দোকানটির ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে কিছু তরুণকে বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়ার সাইটে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি এসব সাইট ব্যবহারের পদ্ধতি শেখানো এবং আর্থিক লাভের প্রলোভন দেখিয়ে জুয়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা সাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে Bangla Bet, 399 Bet, 499 Bet, 299 Bet, 1777 Bet, 4777 Bet, 5777 Bet, 6777 Bet, 8777 Bet, 9777 Bet, CK444, CV666, Betjili, Babu88, Cricrex, MCW ও Mostplay। তবে এসব সাইটে সংশ্লিষ্ট দোকানির সম্পৃক্ততা বা দোকান থেকে সেগুলো পরিচালনার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তরুণদের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে শঙ্কা
স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় অনেকে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। শুরুতে অল্প টাকা দিয়ে খেলা শুরু করলেও পরে হারানো অর্থ ফিরে পাওয়ার আশায় বারবার টাকা বিনিয়োগের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অমনোযোগ, ঋণের চাপ ও পারিবারিক অশান্তির ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কিশোর ও তরুণদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী এবং প্রবীণ ব্যক্তিদেরও দোকানটির আশপাশে অনলাইন জুয়ায় অংশ নিতে দেখা যায়। তাঁদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক পরিবেশেও পড়তে পারে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অনলাইন জুয়াকে সহজে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা তরুণদের পড়াশোনা, কর্মসংস্থান ও পারিবারিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে জিল্লুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।