বাজারে আগুন, দিশেহারা নিম্ন-মধ্যবিত্ত: ৮০ টাকার নিচে নেই কোনো তরকারি, ইলিশ এখন স্বপ্ন
তাছলিমা খন্দকার নুশরাত ( স্টাফ রিপোর্টার(
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। আজ সকালে সরাইল উপজেলা সহ আশপাশের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে কোনো তরকারিই মিলছে না। মাছ-মাংসের বাজারে তো হাত দেওয়াই দায
বাজারে প্রতি কেজি বেগুন, করলা, ঢেঁড়স, পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা। সাধারণ মানুষ বলছেন, আগে ৫০০ টাকায় ব্যাগ ভরতো, এখন ৫০০ টাকায় ৩-৪ পদের বেশি তরকারি কেনা যায় না।
একসময় গরিবের মাছ বলা হতো পাঙ্গাসকে। সেই পাঙ্গাস এখন ২০০ টাকা কেজি। রুই, কাতলা মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ইলিশ মাছের কথা বলতেই দোকানিরা হাসেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ইলিশ খাওয়া তো দূরের কথা, কেনার সাহস করাই এখন বিলাসিতা।
ফার্মের মোরগ বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। দেশি মুরগি ৬০০ টাকা ছুঁইছুঁই। এক হালি লেবুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৪০, ৫০, এমনকি ৬০ টাকা। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি।
বাজারে আসা রিকশাচালক জামাল মিয়া বলেন, “সারাদিন রিকশা চালাইয়া ৬০০ টাকা পাই। ২০০ টাকা মাছ কিনলেই অর্ধেক শেষ। বাচ্চাদের মুখে কী দিমু?”
এক গৃহিণী বলেন, “আগে সপ্তাহে একদিন মাংস খেতাম, এখন মাসেও পারি না।”
বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। তারা বলছেন, দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ না করলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে না খেয়ে থাকতে হবে।