বিয়ের আগের দিনই বরের মৃত্যু: গাইবান্ধায় আনন্দ ঘেরা দুই পরিবারে হঠাৎ শোকের ছায়া
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
রাত পোহালেই বিয়ে। কনের বাড়িতে বরবরণের জন্য আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছিল প্রবেশদ্বার, সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল পুরো বাড়ি। বরের বাড়িতেও চলছিল বিয়ের আনন্দ-উৎসব ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি। কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দের রেশ থমকে গিয়ে পরিণত হলো গভীর বিষাদে। বিয়ের ঠিক আগের দিনই চলে গেলেন বর আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক (২১)। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে দুই পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কনের বাড়িতে পৌঁছায় সৌমিকের অকালমৃত্যুর খবর। মুহূর্তের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় বিয়ের সব আয়োজন। অন্যদিকে, গাইবান্ধা শহরের ডেভিড কোম্পানি পাড়ায় সৌমিকের নিজ বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়; শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েন স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত সৌমিক একজন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন।
স্বজনেরা জানান, প্রায় এক মাস আগে ঢাকা থেকে গাইবান্ধার বাড়িতে আসেন সৌমিক। গত চার দিন ধরে তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তাকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়ে স্বজনেরা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
তবে বিকেলের দিকে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে দ্রুত গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে সৌমিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কি না, সে বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব হয়নি।
যে বাড়িতে বিয়েকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ ও খুশির সুর ভাসছিল, সেখানে এখন কেবলই শোক আর স্বজনদের আহাজারি। একজন উদীয়মান মেধাবী তরুণের এমন অকালপ্রস্থানে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ।