উদ্ধার করে নেয়া হয় হাসপাতালে, সেখান থেকেই নিখোঁজ ১৬ বছরের কিশোরী শিলু, দায় নেবে কে।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
একজন অসহায় ভারসাম্যহীন কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল চিকিৎসা ও নিরাপত্তার জন্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ দেখে তার পরিবারও সন্ধান পেয়েছিল। কিন্তু স্বজনেরা তাকে ফিরিয়ে নিতে আসার আগেই হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় ১৬ বছরের শিলু। এখন প্রশ্ন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কীভাবে নিখোঁজ হলো কিশোরীটি? দায় নেবে কে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কিশামত ঢঢ গাছ গ্রাম থেকে স্থানীয়রা শিলুকে উদ্ধার করে ইউপি সদস্য ওবায়দুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তাকে লালমনিরহাট সদর থানায় নেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তার দায়িত্ব সমাজসেবা বিভাগের কাছে দেওয়া হয়। ওই দিন বিকেলে সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লায়লা বেগম তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আরসিটিভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ দেখে শিলুর পরিবার তার সন্ধান পায়। পরে তারা সদর থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুক্রবার সকালে মেয়েকে ফিরিয়ে নিতে থানায় এসে জানতে পারেন, শিলু হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ হয়েছে।
শিলুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লায়লা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি সদর থানা থেকে কিশোরীটির দায়িত্ব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে নিজের কাজের মেয়েকে সেখানে রেখে আসেন। শুক্রবার সকালে ওই কর্মী হাসপাতাল থেকে চলে আসার পর কিশোরীটি নিখোঁজ হয়।
সমাজসেবা কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, একজন অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী চলে আসার পর তার দেখভালের দায়িত্বে কে ছিলেন? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বা কীভাবে একজন কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ঠেকাতে ব্যর্থ হলো?
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের উচিত সদর থানা পুলিশ, সমাজসেবা বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা। দায়িত্ব হস্তান্তরের নথি, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
শিলু রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ কোলকান্দা ঘুনটারি গ্রামের সাদেকুল ইসলামের মেয়ে। তার মা মৃত মিনারা বেগম। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সে তৃতীয়।
এখন সবার আগে অসহায় ভারসাম্যহীন কিশোরী শিলুকে খুঁজে বের করা এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।