সরাইলের গর্ব – দেওয়ান মাহবুব আলী (কুতুব মিয়া): গরীবের নেতা, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী
এম বাদল খন্দকার (বিশেষ প্রতিনিধি:)
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের ইতিহাসে যে কয়জন মহান নেতার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন দেওয়ান মাহবুব আলী, যিনি সকলের কাছে “কুতুব মিয়া”নামে পরিচিত।
“জন্ম ও বংশ পরিচয়:
তিনি ১৯২৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দেওয়ান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এই দেওয়ান পরিবার হলো বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর বংশধর। ঈশা খাঁর জন্মও এই সরাইলেই।
“শিক্ষা ও পেশাগত জীবন:
পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন ঢাকা হাইকোর্টের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী।
“রাজনৈতিক জীবন:
“ভাষা আন্দোলন: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগ দেন এবং কারাবরণ করেন।
“যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে সরাইল-নাসিরনগর আসন থেকে এমএলএ নির্বাচিত হন।
“গরীবের নেতা: তিনি ছিলেন অবিসংবাদিত গরীব ও মেহনতি মানুষের নেতা। আদমজী জুটমিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে লড়াই করেন।
“ন্যাপ নেতা:তিনি পূর্ব-পাকিস্তান যুবলীগের প্রতিষ্ঠালগ্নের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য এবং পরবর্তীতে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের জন্য তিনি হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যোগ দেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন এবং বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করেন।
সম্মেলন শেষে ১৯৭১ সালের ৪ঠা জুন বুদাপেস্ট থেকে দেশে ফেরার পথে ভারতের নয়াদিল্লিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহান নেতা। পরবর্তীতে তাকে দিল্লির শাহী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
জাতির এই সূর্যসন্তানের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরাইল উপজেলা সদরের হাসপাতাল মোড়ে “দেওয়ান মাহবুব আলী তোরণ” এবং উপজেলা পরিষদ চত্বরে “দেওয়ান মাহবুব আলী কুতুব মিয়া ম্যুরাল” স্থাপন করা হয়েছে। আজও সরাইলের মানুষ তাকে গর্বের সাথে স্মরণ করে।