লালমনিরহাটে কারাগারে ১৪ মাসের শিশুর সঙ্গে বাবার দেখা, ভাইরাল ছবিতে উঠছে মানবিক প্রশ্ন।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
রাজনীতির হিসাব-নিকাশ, মামলা আর কারাগারের কঠিন বাস্তবতার বাইরে একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাড়া দিয়েছে অনেককে। কারাগারে থাকা বাবার সঙ্গে দেখা করতে এসেছে মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক শিশু। বাবার কোলে শিশুটি- এমন একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, শিশুটির বাবা মিলন লালমনিরহাটের আদিতমারীর উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের ছেলে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মিলন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ছবিটিতে দেখা যায়, কারাগারে সাক্ষাতের সময় বাবার সঙ্গে তার ছোট্ট শিশুটি। শিশুটির বয়স মাত্র ১৪ মাস। সে জানে না রাজনীতি কী, দল কী, মামলা কী কিংবা কারাগার কী। তার কাছে মানুষটি শুধু তার বাবা।
এই একটি ছবিই তাই সামনে নিয়ে এসেছে বড় একটি মানবিক প্রশ্ন- কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের দায় কি তার পরিবারের ছোট্ট সন্তানকেও বহন করতে হবে?
প্রশ্ন উঠছে আরও একটি জায়গায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করার আগে রাষ্ট্র কি প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ, তার ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করছে? একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা প্রভাবশালী কিংবা সুবিধাভোগীদের বিষয়ে রাষ্ট্রের তদন্ত ও জবাবদিহিও কি সমানভাবে নিশ্চিত হচ্ছে?
রাজনীতির মাঠে এক দলের সঙ্গে আরেক দলের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ব্যবসায়িক যোগাযোগ কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক থাকার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু সেই রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে যখন একজন মানুষ কারাগারে যায় এবং তার ১৪ মাসের সন্তান বাবাকে দেখতে কারাগারে আসে, তখন বিষয়টি আর শুধু রাজনীতির থাকে না- এটি হয়ে ওঠে মানবিকতার প্রশ্ন।
মিলনের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ সত্য কি না, তার রাজনৈতিক বা কথিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাত্রা কতটুকু- সেটি নির্ধারণ করবে আইন ও আদালত। কিন্তু তার শিশুটি যখন বড় হবে, তখন আজকের এই ছবিটি যদি তার সামনে আসে, সে হয়তো প্রশ্ন করবে- তার বাবার সঙ্গে এমনটা কেন হয়েছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি সভ্য রাষ্ট্রেরও। শিশুর সঙ্গে বাবার সাক্ষাতের এই ছবিটি যেন সেই প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে।