বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ অপরাহ্ন
Headline :
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি থানা পুলিশ কর্তৃক সিআর পরোয়ানাভু্ক্ত ০১ জন আসামী গ্রেফতার। শিরোনাম:* লিজা আক্তারের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত গজীপুর জেলার কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ফ্যান উপহার গাইবান্ধায় জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রংপুরে ১৭ তরুণীর হাতে বিনামূল্যে ল্যাপটপ হস্তান্তর: চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ১২ নং খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার ৭ নং এলাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী মামুনুর রশিদ খান

ঠাকুরগাঁওয়ে ১০৬ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের ৯.৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিলের টাকা নিয়ে উধাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার, থানায় মামলা

Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে ১০৬ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের ৯.৬৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
বিলের টাকা নিয়ে উধাও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার, থানায় মামলা
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার
০১৭১৭৭৭৬৯৭২

ঠাকুরগাঁওয়ে ১০৬ গ্রাহকের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিলের ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৮ টাকা আদায় করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার কাম মেসেঞ্জার মো. গোলাম কাদেরের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।বুধবার (৭ অক্টোবর) এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা করেছেন ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম-প্রশাসন) মো. গোলজার হোসেন।

অভিযুক্ত গোলাম কাদের (৩২) ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া গ্রামের মৃত ছালে আহাম্মদ মাতুব্বরের ছেলে। মামলা হওয়ার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বোচাপুকুর এলাকার ১০৬ জন গ্রাহকের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদ্যুৎ বিলের টাকা আদায় করেন গোলাম কাদের। গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর বিলের কাগজে স্বাক্ষরও করেন তিনি। তবে ওই টাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২৭ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান গোলাম কাদের। পরে তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পরও গ্রাহকদের বকেয়া দেখানোর ঘটনায় এলাকায় অসন্তোষ দেখা দেয়। বিষয়টি তদন্তে গত ২৩ সেপ্টেম্বর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে বোচাপুকুর এলাকার ১০৬ জন গ্রাহকের কাছ থেকে সরকারি রাজস্ব হিসেবে আদায় করা ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৮ টাকা সমিতিতে জমা না দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

বোচাপুকুর এলাকার গ্রাহক মহসিন আলী বলেন, তিনি প্রতি মাসে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। কিন্তু এখন তার ছয় মাসের বিল বকেয়া দেখানো হচ্ছে। এতে তার বকেয়া বিল দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।

আরেক গ্রাহক আকবর আলী বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে চাকরি করার কারণে গোলাম কাদেরকে বিশ্বাস করে তিনি বিদ্যুৎ বিলের টাকা দিয়েছেন। বিলের কাগজে গোলাম কাদের স্বাক্ষরও করেছেন। কিন্তু এখন তার আট মাসের বিল বকেয়া দেখানো হচ্ছে। এমনকি তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে লোকজন এসেছিল বলেও জানান তিনি।

গ্রাহক বিলকিস আক্তার জানান, গোলাম কাদের বাড়িতে এসে বিদ্যুৎ বিলের টাকা নিয়ে বিলের কাগজে স্বাক্ষর করতেন। টাকা পরিশোধ হয়ে গেছে মনে করলেও পরে তিনি জানতে পারেন, তার সাত মাসের বিল বকেয়া রয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার টাকা।

মামলার বাদী ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম-প্রশাসন মো. গোলজার হোসেন বলেন, গোলাম কাদের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত হয়ে পালিয়ে গেছেন। তদন্তে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতে সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে এজাহার পাওয়ার পর ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪০৮ ধারায় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত গোলাম কাদের পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছ।


More News Of This Category