লালমনিরহাট শহরের বাবুপাড়া পাড়া এলাকার গাউছিয়া মসজিদের এরশাদ হুজুরের ছেলে হৃদয়কে তার স্ত্রী জ/বা/ই করেছে। পুলিশের হাতে আ”ট’ক স্ত্রী ছেলেটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
পারিবারিক কলহ নাকি ঠান্ডা মাথার খু/নে/র চেষ্টা?
লালমনিরহাটের বাটামোড়ে গৃহবধূর পৈ/শা/চি/কতা!
লালমনিরহাটের বাবুপাড়া বাটামোড় এলাকায় ঘটে যাওয়া এক লোমহর্ষক ঘটনা পুরো জেলাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক থেকে পরিণয়, আর সেই পরিণয় যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ উম্মে জান্নাত সাথী। সামান্য পারিবারিক বিবাদকে কেন্দ্র করে একজন স্ত্রী কতটা হিং/স্র হয়ে উঠতে পারেন, তা এই ঘটনাটি না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
ফেসবুকের প্রেম ও অন্ধকার অতীত:
জানা গেছে, ভুক্তভোগী যুবক হৃদয় (গাউসিয়া মসজিদের ইমামের ছেলে) এবং উম্মে জান্নাত সাথীর পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকের মাধ্যমে। সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক এবং পরবর্তীতে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের পরই বেরিয়ে আসে সাথীর অন্ধকার অতীত। হৃদয়ের সাথে এটি তার প্রথম বিয়ে ছিল না; ইতিপূর্বে তার আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল। এই তথ্যগুলো এবং সাথীর চারিত্রিক জটিলতা নিয়ে সংসারে শুরু থেকেই অশান্তি বিরাজ করছিল।
ঘটনার নৃশংস বিবরণ:
ঘটনার দিন সকালে হৃদয় যখন অতিষ্ঠ হয়ে তার মাকে বলছিলেন, “মা আমি এই অশান্তির মধ্যে আর থাকবো না, আমি খালার বাসায় চলে যাচ্ছি,” ঠিক তখনই সাথী তাকে কৌশলে ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। হৃদয় ঘরে ঢোকামাত্রই সাথী তাকে অতর্কিতে আক্রমণ করে এবং জোরজবস্তি মাটিতে ফেলে দিয়ে ধারালো অ/স্ত্র দিয়ে তার গলা কা/টার চেষ্টা করে।
হৃদয়ের আর্তচিৎকার— “মা, ও আমার গলা কেটে ফেলল!” শুনে তার মা পাগলের মতো ছুটে আসেন। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তিনি দীর্ঘক্ষণ প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে ওই হিংস্র নারী হৃদয়ের মায়ের ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার হাতেও বেশ কয়েক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত করে।
নিজেকে বাঁচাতে আত্মঘাতী নাটক:
যখন সাথী বুঝতে পারে সে হাতেনাতে ধরা পড়ে যাচ্ছে, তখন অত্যন্ত চতুরতার সাথে সে নিজেকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে এক ভয়ংকর পথ বেছে নেয়। সে নিজের গলায় নিজে অন্তত ৬টি জায়গায় আঘাত করে, যাতে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা যায়। বর্তমানে সে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পুলিশি পাহাড়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, একজন মানুষ কতটা মানসিকভাবে বিকৃত হলে স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করার পর নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নিজের শরীর এভাবে ক্ষতবিক্ষত করার নাটক সাজাতে পারে?
অভিযুক্ত: উম্মে জান্নাত সাথী (পিতা: রুহুল কুদ্দুস, স্টেশন রোড, আদিতমারি)।
ভুক্তভোগী: হৃদয় (পিতা: এরশাদ, ইমাম, গাউসিয়া মসজিদ, বাটামোড়)।
হৃদয়ের বর্তমান অবস্থা ও বিচারের দাবি: হৃদয় বর্তমানে রংপুর সদর হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার এ পর্যন্ত দুইবার বড় ধরনের অপারেশন করতে হয়েছে। প্রথমবার অপারেশনের পর গলার সেলাই ছুটে যাওয়ায় তাকে পুনরায় অপারেশন থিয়েটারে নিতে হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং দুইবার অপারেশনের ধকল সহ্য করে সে এখনো লড়ে যাচ্ছে, তবে চিকিৎসকরা এখনো তাকে পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত বলতে পারছেন না।
পারিবারিক কলহ সব সংসারেই থাকতে পারে, কিন্তু তার সমাধান কখনো কারো জীবন কেড়ে নেওয়া হতে পারে না। এই নৃশংস ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, উম্মে জান্নাত সাথী কতটা ঠান্ডা মাথার অপরাধী। এলাকাবাসীর দাবি, কোনোভাবেই যেন এই ঘটনা ধামাচাপা না পড়ে এবং এই পৈশাচিক আচরণের জন্য সাথীর দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হয়।