বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
Headline :
দিনাজপুরে উদ্ধার হওয়া ৩২ কেজি ওজনের প্রাচীন বিষ্ণুমূর্তি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে হস্তান্তর ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত শাহরাস্তি থানা পুলিশ কর্তৃক সিআর পরোয়ানাভু্ক্ত ০১ জন আসামী গ্রেফতার। শিরোনাম:* লিজা আক্তারের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠিত গজীপুর জেলার কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী মিনি বার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত সাঘাটা উন্নয়ন সংস্থার ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ফ্যান উপহার গাইবান্ধায় জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত রংপুরে ১৭ তরুণীর হাতে বিনামূল্যে ল্যাপটপ হস্তান্তর: চট্টগ্রামের মিরসরাইতে ১২ নং খৈইয়াছড়া ইউনিয়ন কালিয়াকৈরে অবৈধ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে নারী পুরুষ কর্তৃপক্ষ সহ ৩৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা: স্বামী আতিকুলের মৃত্যুদণ্ড।

Update : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা: স্বামী আতিকুলের মৃত্যুদণ্ড।

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪

লালমনিরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অপরাধে স্বামী মো. আতিকুল ইসলামকে (৩০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাটের জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

নিহত গৃহবধূ মোছা. মিতু আক্তার লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্দা ইউনিয়নের গোকুন্দা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার বাসিন্দা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আতিকুল ইসলাম একই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।

আদালতের নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আতিকুলের সঙ্গে মিতু আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ৫ মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই সামান্য পারিবারিক বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে মিতুকে গালিগালাজ করেন আতিকুল। ঘটনার রাতে আতিকুল কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে মিতু তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে তার মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। পরবর্তীতে ঘরের উঠানে থাকা একটি শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মিতুকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। নৃশংসে এই নির্যাতনের ফলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মিতু। ঘটনার পরপরই আতিকুল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে নিহতের ৫ মাসের শিশুসন্তান আতিকা আক্তারের অনবরত কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে মিতুর নিথর দেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নিহতের বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর এ মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। এরপর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলা চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা শেষে আজ আদালত এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, “আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে যাবে যে, নারী নির্যাতন ও নৃশংসতার কোনো ছাড় নেই।

তিনি আরও জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আগামী ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগ পাবেন। আদালতের এ রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহত মিতুর পরিবারও।


More News Of This Category