লালমনিরহাট সদর পিআইও এর বিরুদ্ধে, প্রকল্পের কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ।
মোঃসেলিম মিয়া লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা
লালমনিরহাট গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণ (কাবিটা) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ (টিআর) উন্নয়ন প্রকল্পের নাম মাএ কাজ করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলামিন সরকারের বিরুদ্ধে।
চলতি জুন মাসে অর্থ বছর ক্লোজের টার্গেট নিয়ে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ না নিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিসে দেয়া হচ্ছে কাজ না করা এসব প্রকল্পের চেক।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল আমিন সরকার সরকারি প্রকল্পের টাকা কৌশলে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (টিআর-নগদ টাকা) কর্মসূচির আওতায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার সাপটানা আবাসনের ভিতরে অবস্থিত পৌর শিশু নিকেতন স্কুলের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৪
লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। লালমনারহাট সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল আমিন সরকার এ প্রকল্পের | সভাপতি হিসেবে রাখেন রাশেদকে। তবে এই রাশেদ শুধু এই প্রকল্পের সভাপতি নন। তিনি পিআইও’র আস্থা ভাজন হওয়ায় সাপটানা আবাসনের পুকুরপাড় সংস্কার প্রকল্পের সভাপতিও।
প্রকল্পে পুকুরপাড় সংস্কারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়। অথচ করা হয়নি কোন সংস্কার কাজ। কিন্তু কাগজ কলমে দেখানো হয়েছে প্রকল্প দুটির কাজ শেষ। তবে প্রকল্প দুটির জন্য ব্যক্তিগত ভাবে প্রকল্পের সভাপতি রাশেদের কাজ থেকে ৩ লাখ টাকা জোর করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, পৌর শিশু নিকেতন স্কুলে আবাসনের ভিতরের বাসিন্দাদের সন্তানরা লেখা-পড়া করেন। তাই আমরা সবাই চাই এই স্কুলের উন্নয়ন সঠিক ভাবে হোক। কিন্তু সরকারি ভাবে উন্নয়নের জন্য টাকা আসলেও তার সঠিক ব্যবহার হয়নি। নামমাত্র উন্নয়ন দেখিয়ে ভাউচার তৈরি করে বেশি বেশি খরচ দেখানো হয়েছে। আমরা চাই আমাদের এলাকার দুলু মন্ত্রী স্যার এর বিচার করুক।
গ্রমীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) নির্বাচনী এলাকা ভিত্তিক ৩য় পর্যায় কর্মসূচির আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পে সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন“ময়নুল মোহবীর বাড়ি হতে দোকান ভায়া ওপদা বাধ শাহআলী বাড়ি পযন্ত ৩৫ মে:টন বরাদ্দ দেয়া হয়। নাজমুলের বাড়ির তেপতি থেকে ভায়া নূরজানমাল বাড়ি থেকে হানিফের বাড়ি পযন্ত রাস্তা সংস্কার বাবদ বরাদ্দ ছিলো ৩ লক্ষ টাকা,কিন্তু এ প্রকল্পের শুধু রাস্তার উঁচু নিচু সমান করে প্রথম দফার বিল উত্তোলন করে নিয়ে কাজ আর করেননি, কিন্তুু তুলে নেওয়া হয়েছে প্রকল্পের টাকা।
এলাকাবাসীর সূত্র জানা যায়,টিআর- কাবিটা প্রকল্পের কোন কাজ ঠিক মতো করেন নাই শুধু ১ দিন এস রাস্তার ঘাস তুলে মাঝে যে গর্ত ছিলে সে গুলো সমান করে গেছে আর আসেনি, আমরা এই ভাংগা ও কাদা রাস্তা দিয়ে যাইতে পারি না,আমাদের ও কেউ খোঁজ খবর নেন না।আরও যে পরিমান বরাদ্দ তার অর্ধেক টাকা দিয়েও যদি কাজ করা হতো তাতে কিছুটা হলেও রাস্তাগুলো ভালো থাকতো। কিন্তু তারা শুধু রাস্তার গর্তগুলো ভরাট আর রাস্তার উঁচু নিচু সমান করেছেন।রাস্তা সংস্কার প্রকল্পেও পুরোনো রাস্তাকে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবে করা হয়নি।বরং এ ধরনের একাধিক সড়ককে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখিয়ে কাজ না করে প্রকল্পের চেয়ারম্যান ও পিআইও যোগসাজে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কাজের প্রতিটি বিল উত্তোলনের সময় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। কমিশন না দিলে বিল পেতে হয়রানির শিকার হতে হয়।এমনকি এক নারী ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে ওই প্রকল্পের কাজ নিজে করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আল-আমিন সরকার কে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিল তিনি ফোন রিসিভ করেননি।