গাইবান্ধায় বসতবাড়িতে হামলা-আগুন, স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর আনালেরতাড়ী এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ, মারধর, হত্যাচেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মোছাঃ রিক্তা খাতুন (২৫) বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উত্তর আনালেরতাড়ী গ্রামের রিক্তা খাতুনের পরিবারের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও মনোমালিন্য চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাতে আসামিরা লাঠি, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র, পাটখড়ি ও কেরোসিন তেল নিয়ে দলবদ্ধভাবে রিক্তা খাতুনের বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামি মোকলেছুর রহমানের নির্দেশে মঞ্জিল মিয়া ও ময়নুল মিয়া বসতঘরের বেড়া এবং ভেতরে থাকা বাঁশ-খড়িতে কেরোসিন তেল ছিটিয়ে দেন। পরে মোবারক মিয়া ও ফরিদ মিয়া দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে ঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ খড়ি পুড়ে আনুমানিক ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বাদী দাবি করেছেন।
এ সময় বাদী ও তার স্বামী আশরাফুল ইসলাম বাধা দিতে গেলে আসামিরা তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে আসামি সোনা মিয়া ধারালো ছোরা দিয়ে আশরাফুল ইসলামের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাতটি বাম কাঁধ সংলগ্ন বুকে লাগে এবং এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া আসামি আব্দুল আজিজ বাদীর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন এবং আসামি ফরহাদ মিয়া তার গলায় থাকা আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চেইনটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন এবং আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহত আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাদী এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, স্বামীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় থানায় গিয়ে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।