যানজট কমাতে , হকার উচ্ছেদ, অটোরিকশা বন্ধ করা, সন্ত্রাস কমাতে, বারবার পুলিশ নিয়োগ দেয়া প্রসঙ্গে।
অথই নূরুল আমিন
দেশের একটি সরকার ইচ্ছে করলে সব করতে পারে,রাতকে দিন এবং দিনকে রাত করতে পারে । বর্তমানে ঢাকা শহর, এ যেন যানজটের শহর বলা চলে। বসবাসের অযোগ্য বলা চলে। যানজট – ছিনতাই, যা প্রতিদিনকার ঘটনা। বতর্মান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই, যানজট কমিয়ে আনা নিয়ে খুব চেষ্টা করে চলছে। একটি ভালো ও সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে, ঢাকার দুই সিটিতে দলীয় প্রশাসকও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারাও দুজন মিলে দলীয় সুনাম আনার জন্য রাতদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজকে ও ঢাকার বেশকিছু জায়গায়, হকার উচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটেছে। আমার প্রশ্ন হলো, এই হকার গুলোকে উচ্ছেদ করে দিলে উনারা যাবেন কোথায়? উনারা তো সবাই নিম্ন আয়ের জনগণ তাই না? তার মধ্যে প্রায় সবাই ভাড়াটিয়া। তিরিশটা দিন যেন চোখের পলকে চলে যায়। এর মধ্যে বাসা ভাড়া, খাওয়া খরচ, বিদ্যুত বিল, যেখানেই দোকান পাতুক। সেখানে ও কিন্তু একটা মাসোয়ারা অবশ্যই আছে।
অন্যদিকে প্রতিদিনই অটোরিকশা বন্ধ করার পাঁয়তারা চলছে। কোথাও আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। কোথাও অটোরিকশা ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। দেশ জুড়ে রাস্তা বড়ো করতে গিয়ে কৃষকদের ফসলি জমি নষ্ট করা হচ্ছে বা অন্যজনের ঘরবাড়ি, দোকানপাট উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এরকম কাজ কি আসলেই সুন্দর কোনো সমাধান বয়ে আনতে পারে? আমার কাছে মনে হয়, এসবই মূলত সরকারের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড। সরকারের উচিৎ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা। যেখানে দেশের সকল নাগরিকের থাকবে সমান অধিকার। তাদের যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতার আলোকে থাকবে সুযোগ সুবিধা। এখানে কেউ খাবে, কেউ খাবে না। তা কি কখনও সুন্দর দেখায়? দেখায় না। আজকে যে হকার গুলোকে শক্তি প্রয়োগ করে সরকার উচ্ছেদ করে দিচ্ছে। আজকে যাদের রিক্সা পুলিশ ভেঙ্গে দিচ্ছে। ওরা তো একদিন বিএনপি দলের বিরোধী হবে। রাগে এবং ক্ষোভে। আসলে তো তাই হয়ে থাকে। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতারা এসে তাদেরকে শান্তনা দিচ্ছে। আসলে হচ্ছেটা কি দেশে? তাই নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা সমগ্র দেশ জুড়ে।
আমি পূর্বেও লিখেছি। বিশেষ করে ঢাকা শহরটা ২০০২ সালের পর থেকেই, আবাসন ব্যবস্থা বা হাউজিং সোসাইটির নামে, ঢাকার নিকটবর্তী বা ঢাকার চারপাশে হাজারো আবাসন প্রকল্প বা হাউজিং সোসাইটি গড়ে উঠার ফলে, ঢাকায় জনগণের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে ধীরে ধীরে। এখন বতর্মানে প্রায় তিন কোটি জনগণের বসতি গড়ে উঠেছে, এই ছোট্ট নগরী ঢাকা এবং তার আশেপাশের এলাকা সমুহে। এই যে তিন কোটি জনগণ। তারা কিন্তু প্রায় সবাই ঢাকার ভিতরেই, কেউ চাকরি, কেউ ব্যবসা, কেউ দিনমুজুর এরকম অসংখ্য পেশায় জড়িত রয়েছেন। জীবন জীবিকা নির্বাহ করার তাগিদে ঢাকা শহরেই তাদের বসবাস।
তবে এখানে বেশিরভাগ জনগণই কিন্তু ভূমিহীন, গৃহহীন ও ভাসমান জনগণ। যার সংখ্যা প্রায় দুই কোটিরও বেশি। তবে এদের মধ্যে হকার, রিক্সাওয়ালা ভ্যান চালকও রয়েছেন । অন্যদিকে রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি, রং মিস্ত্রি এছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিক,ছোট ছোট কারখানা শ্রমিক, অসংখ্য দোকানও মার্কেটের কর্মচারী নাইটগার্ড/ সিকিউরিটি গার্ডসহ অসংখ্য পেশায় নিয়োজিত এই দুই কোটি জনগণ,(নারী ও পুরুষ)। ঢাকার ভিতরে পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ ভিক্ষুক রয়েছেন। তবে ঢাকায় এই যে, দুই কোটি জনগণ নিম্ন আয়ের বসবাস করছেন । তারা প্রায় সবাই কিন্তু ভাড়াটিয়া। মানে কোন না কোন বাড়ি বা ঘরের মালিকের কাছ থেকে, ঘর ভাড়া নিয়েই থাকতে হচ্ছে।
ঢাকা শহরে বসবাসকারী নিম্ন আয়ের বা ভাড়াটিয়া এই দুই কোটি জনগণ, তারা সবাই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় বসবাস করছেন । আমি যতটুকু জানি, এখানে কিন্তু আসলে কেউ মানসিক বা আর্থিক দিয়ে আসলে কেউই ভালো নেই। বিশেষ করে ঢাকার শহরে এই নিম্ন আয়ের জনগুষ্টির জনগণ গুলো সরকারের কাছ থেকে একটি ভোটার কার্ড পাওয়া ছাড়া, বিগত তিরিশ বছরের ভিতরে তেমন কোনো সুযোগ সুবিধা পেয়েছে বলে আমার জানা নেই। অথচ ২০০৮ সালের পর থেকে, ঢাকা শহরের প্রতি একশ ভোটারের মধ্যে, সত্তরের বেশি ভোটার কিন্তু এই ভাড়াটিয়া জনগুষ্টি। ঢাকা শহরের এই গৃহহীন, ভূমিহীন ও ভাসমান দুই কোটি জনগণের কোথাও মাথাগোঁছার জায়গা নেই দেশের কোথাও আমার জানামতে।
সব সরকারের আমলেই দেখা যায়, ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে, হকার উচ্ছেদ করতে, রিক্সা বন্ধ ও সন্ত্রাস দমনের জন্য, সরকার বারবার পুলিশ নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিন্তু কোন সরকারের আমলেই ওদের জন্য কোনো কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে দেখা যায়নি । ওদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পূনর্বাসন করতে পারেনি কোন সরকারের আমলেই । এককথায় দেশের সরকারের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে ঢাকা শহরের এই দরিদ্র জনগুষ্টি চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছে সবসময় ।
একটা গৃহহীন, ভূমিহীন বা ভাসমান পরিবার যখন রাষ্ট্রের প্রায় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। তার সংসার চালাতে গিয়ে যখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। তখন তার জীবনে অবশিষ্ট আর কি থাকে? কিছুই না। যুবক বয়সে যখন একটি ছেলে বা মেয়ে তার স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হয়। তখনই সে বাধ্য হয়ে বিপথগামী পথ বেছে নেয় অনেকেই। অথচ এরকম বিষয় গুলো দমন করতে গিয়ে, দেশের সরকার বারবার বোকার মত সেই পুলিশ নিয়োগ দিয়েই যাচ্ছে। দিয়েই যাচ্ছে। এ যেন মাথা ব্যথার মলম, পায়ে লাগানোর মতো অবস্থা। একটা খারাপ লোক সে সমাজের জন্য খারাপও ক্ষতির কারণ। আবার পুলিশে ধরে নিয়ে জেলে দিলে তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিচ্ছে সরকার। লোকটা অর্থ কষ্টে খারাপ হওয়ার পর জেলে গেলে সরকার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে পারে। এই লোকটা যখন সুস্থ ছিলেন। তখন না এগিয়ে আসলোসসরকারের কোন প্রকল্প না এগিয়ে আসলো সমাজের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন। যা খুবই দুঃখজনক।
দেশের সরকার প্রতিবছর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পিছনে যত টাকা ব্যয় করে যাচ্ছে প্রতিবছর । তার অর্থেক টাকা দিয়েই দেশের তিন কোটি বেকার জনগণকে আত্ম কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে দেয়া সম্ভব, সুন্দর পরিকল্পনার মাধ্যমে । একটা যুবক ছিনতাই করবে, চুরি করবে, নেশা খাবে, নেশা বিক্রি করবে। এটা আসলে মূলত হতাশা থেকেই বেশি হয়ে থাকে । যখন সে দেখে তার জীবনের আর কোনো দাম নেই। কেউ তাকে কোনরকম সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসছে না। সংসার সমাজ সব জায়গা থেকে যখন সে অবহেলা পেতে থাকে। তখন সে বাধ্য হয়েই খারাপ পথ বেছে নেয় যা অনেকের বেলায় প্রমাণিত । তবে সবাই এরকম হয় তা কিন্তু ঠিক নয়। তবে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে, দেশের সিংহভাগ নাগরিক অসৎ পথ বেছে নিয়েছে। তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বতর্মান সরকারের সকল মন্ত্রী, এমপিসহ রাষ্ট্রীয় পরামর্শকদের কাছে বিনীত অনুরোধ, ঢাকা শহরসহ দেশের তিনকোটি জনগণ বেকার রয়েছে , প্রায় আড়াই কোটি জনগণ গৃহহীন, ভূমিহীন,ভাসমান রয়েছে। এই বেকারত্ব দূর করার জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পূনর্বাসন প্রকল্প করতে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ ( একনেক ) থেকে মাত্র, আড়াই থেকে তিন লাখ কোটি টাকার একটি প্রকল্পর অনুমোদন করুন। ঢাকার বাহিরে তাদের জন্য কর্মসংস্থান ও পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন । সমবায় ভিত্তিক চাষাবাদ খামারসহ আধুনিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করুন। দেখবেন সন্ত্রাস কমে যাবে, ঢাকার যানজট কমে আসবে। ধীরে ধীরে দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে। ধীরে ধীরে ফিরে আসবে সমাজের সামাজিক সৌন্দর্য। “এই সমাজের দালাল আর তোষামোদ কারীরা সব লুঠে খাবে, সরলেরা না খেয়ে থাকবে”। এমন পথ থেকে বেড়িয়ে আসতেই হবে। এই লেখাটি সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব মতামত থেকে প্রকাশিত । যদি কারো কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হয়। আশাকরি কমেন্ট করে জানাবেন। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।
অথই নূরুল আমিন
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬