কুড়িগ্রামে পাউবো অফিসের সামনে ভাঙনকবলিতদের মানববন্ধন
নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি।
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মেখলী এলাকায় ধরলা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অফিসের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে ভাঙনকবলিত শতাধিক পরিবারের লোকজন অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর আগ্রাসী ভাঙনে মেখলীসহ আশপাশের এলাকায় শত শত বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে অসংখ্য বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রতিনিয়ত ভাঙন অব্যাহত থাকায় দিন দিন ছোট হয়ে আসছে এলাকার ভূখণ্ড ও মানুষের বসবাসের জায়গা।
এ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, ডিস্ট্রিক্ট ক্লাইমেট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক এম রশিদ আলী, অ্যাক্টিভিস্ট কুড়িগ্রামের প্রতিনিধি আরজু খাতুন, ডোনেট ফর ভুরুঙ্গামারীর সদস্য চামেলী খাতুন এবং ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ইলিয়াস আলীসহ নদী ভাঙনকবলিত মানুষজন।
ভাঙনকবলিত লোকজন অভিযোগ করেন, ধরলা নদীর ভাঙন রোধে এর আগে একাধিকবার মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছর বর্ষা ও নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে। এতে একদিকে মানুষ বসতভিটা ও কৃষিজমি হারাচ্ছেন, অন্যদিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা।
তারা আরও বলেন, এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে একসময় মেখলী এলাকার বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে শুধু সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং নদীর গতিপথ ও ভাঙনপ্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা জরুরি।
ভাঙনকবলিত কৃষক সোহরাব উদ্দিন (৬৫) বলেন, দ্রুত মেখলী এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ‘টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন রোধ করা না হলে আমাদেরকে আবাদি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে ভুমিহীন হয়ে চরম দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে বাঁচতে হবে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে চরমভাবে মানবেতর জীবসযাপন করছে,’ তিনি বলেন।
ভাঙনকবলিত কৃষক মতিয়ার রহমান (৬০) বলেন, প্রতিবছর ধরলা নদীর ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু বালুভর্তি জিও ফেলায় কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। প্রতিবছরই নদী ভাঙছে। টেকসই বেড়িবাঁধ ছাড়া ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়। বালুভর্তি জিও ব্যাগে ফেলে সরকারি টাকা অপচয় করার চেয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করলে সেটা কার্য্যকরী হবে। ‘ধরলার ভাঙন থেকে আমাদের জমি বাঁচান, আমাদের বাস্তুভিটা বাঁচান, আমাদেরকে বাঁচান,’ তিনি বলেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ধরলা নদীর বাম ও ডানীরের বেশ কয়েকটি ভাঙনকবলিত স্থানে তীররক্ষা কাজ চলমান রয়েছে। চর মেখলী এলাকায় এবছর ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। আপাতত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো হয়েছে। সেখানে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে।