লালমনিরহাটে এসএসসি-সমমানে পাসের হার ৫৪.৪৮ শতাংশ, শতভাগ ফেল এক বিদ্যালয়ে।
লালমনিহাট জেলা প্রতিনিধি
রওশন বাবু
০১৭২৫১৯২৪২৪
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় লালমনিরহাটে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ বছর জেলার ১৮ হাজার ৪২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ৩৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২৭ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পরীক্ষার ফলাফলের এসব তথ্য জানানো হয়।জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৩ হাজার ৪১৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭ হাজার ৫১০ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ।দাখিল পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ জন। এ ক্ষেত্রে পাসের হার ৫০ দশমিক ৬২ শতাংশ। এসএসসি ভোকেশনালে ২ হাজার ২১৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ১২৩ জন। এই বিভাগে পাসের হার ৫০ দশমিক ৭২ শতাংশ।
অন্যদিকে, দাখিল ভোকেশনালে ৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে কম—৩০ দশমিক ৬১ শতাংশ।
ফলাফলে দেখা যায়, জেলায় এবার মোট ৬২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ এসএসসিতে ৫৬০ জন, দাখিলে ৩৭ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে ৩০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তবে দাখিল ভোকেশনালে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
এদিকে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার এ.এম. রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন চিত্র। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ বিদ্যালয়টির শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।একটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠদানের মান, উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক একাডেমিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।