শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন
Headline :
দেশকে বাঁচাতে প্রগতিশীল সাংবাদিকদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে-মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল শফিক বাবু/হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজঃদেশ- কালিয়াকৈর পৌরসভার নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ পল্টনে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল নারী শ্রমিকের মোঃ দুলাল সরকার গজারিয়ায় প্রতিনিধি কুড়িগ্রামে প্রাচীন শিব মন্দির হারাচ্ছে পোড়ামাটির নান্দনিক শিল্পকর্ম প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে থাকলেও জানেন না স্থানীয়রা আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ স্বরনে ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ টেলিগ্রাম গ্রুপের সভা শুক্রবার,১০ জুলাই ২০২৬ হাকিকুল ইসলাম খোকন, রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি’র অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার, ০১ (এক) জন মাদক কারবারি আটক।** আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ সীমান্তে অভিনব কাণ্ড: সুপারির বাগানে গ্রিনহাউস পদ্ধতিতে গাঁজা চাষ, অর্ধশতাধিক গাছ জব্দ আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২ গজারিয়া সচেতন সমাজ ও গজারিয়া পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিস সমন্বয়ে মতবিনিময়। মোঃ দুলাল সরকার গজারিয়ায় প্রতিনিধি ম্যাক্স হাসপাতালের মালিকানা নেই, অভিযোগের জবাব দিতে প্রস্তুত ডা. ইসমাইল মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে প্রাচীন শিব মন্দির হারাচ্ছে পোড়ামাটির নান্দনিক শিল্পকর্ম প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে থাকলেও জানেন না স্থানীয়রা আরমান হোসেন রাজু রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার। ০১৭১৭৭৭৬৯৭২

Update : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

কুড়িগ্রামে প্রাচীন শিব মন্দির হারাচ্ছে পোড়ামাটির নান্দনিক শিল্পকর্ম
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে থাকলেও জানেন না স্থানীয়রা

আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২

কুড়িগ্রামের প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক শিব মন্দির ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে তার অমূল্য পোড়ামাটির নান্দনিক কারুকার্য। সংরক্ষণের অভাব, প্রত্নতাত্ত্বিক তদারকির অনুপস্থিতি এবং স্থানীয় উদ্যোগে বারবার অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে মন্দিরটির দেয়ালে থাকা ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটার অলংকরণ ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
অথচ ২০১৯ সালেই মন্দিরটিকে সরকারিভাবে প্রাচীন পুরাকীর্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ তথ্য সম্পর্কে অবগত নন মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, সেবায়েত এমনকি স্থানীয় বাসিন্দারা। মন্দির চত্বরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কোনো সাইনবোর্ডও নেই। ফলে মন্দিরটি সরকারি সংরক্ষিত স্থাপনা—এ বিষয়টি অজানাই থেকে গেছে সবার কাছে।

ফলে ভবনটি টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সময়ে সময়েই প্লাস্টার, রং ও অন্যান্য সংস্কারকাজ করছেন। এতে একদিকে যেমন মন্দিরের আদি স্থাপত্যশৈলী নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দেয়ালে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন পোড়ামাটির কারুকার্যও ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট এলাকায় অবস্থিত এই একগম্বুজবিশিষ্ট শিব মন্দিরটি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উপাসনালয় হওয়ার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবেও পরিচিত।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নাওডাঙ্গা পরগনার জমিদার বাহাদুর শিব প্রসাদ বক্সী প্রায় ৩০০ বছর আগে মন্দিরটি নির্মাণ করেন। প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতার একগম্বুজবিশিষ্ট এ মন্দিরে জমিদারি আমল থেকেই নিয়মিত শিবপূজা হয়ে আসছে। মন্দিরটির দেয়ালে খোদাই করা পোড়ামাটির নান্দনিক কারুকাজ তৎকালীন শিল্পরুচি ও স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মন্দিরটিকে ‘প্রাচীন পুরাকীর্তি’ হিসেবে গেজেটভুক্ত করে। আইন অনুযায়ী, এ ধরনের স্থাপনায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের সংস্কার বা পরিবর্তন করা যায় না।

স্থানীয়রা জানান, উত্তরাঞ্চলের প্রাচীন মন্দিরগুলোর মধ্যে বালারহাটের এই শিব মন্দিরটি ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও স্থাপত্যগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ সংরক্ষণ না হলে অচিরেই মন্দিরটির শতাব্দীপ্রাচীন টেরাকোটার শিল্পকর্ম চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্দিরের সেবায়েত সুরেশ চন্দ্র রায় জানান, এখানে প্রতিদিন নিয়মিত পূজার্চনা হয়। প্রতি বছর শিব চতুর্দশী উপলক্ষে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে শিবরাত্রি ব্রত ও বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, “শুনেছিলাম মন্দিরটিকে প্রাচীন পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি বাস্তবে হয়েছে কি না, তা কখনো নিশ্চিতভাবে জানতে পারিনি। এখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কোনো সাইনবোর্ডও নেই।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি কোনো তদারকি বা নির্দেশনা না থাকায় আমরা না বুঝেই মাঝে মাঝে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে মন্দিরের দেয়ালে থাকা প্রাচীন পোড়ামাটির কারুকার্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

মন্দিরে পূজা দিতে আসা ৮০ বছর বয়সী নির্মল চন্দ্র বর্মণ বলেন, “আমি শৈশব থেকে এই মন্দিরে পূজা করে আসছি। এত প্রাচীন মন্দির আশপাশের জেলাতেও খুব একটা নেই। এখানে পূজা করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়।”
তিনি বলেন, “মন্দিরের দেয়ালে অসাধারণ সব পুরাকীর্তির নকশা রয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা এখন খুবই জরুরি।”

কুড়িগ্রাম সদর থেকে মন্দির দেখতে আসা নন্দন কুমার রায় বলেন, “অনেকের মুখে এই মন্দিরের কথা শুনে দেখতে এসেছি। কাছ থেকে দেখে মনে হয়েছে, এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির মূল্যবান সম্পদ। এর টেরাকোটার শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।”

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুশীল চন্দ্র রায় বলেন, প্রায় ৯-১০ বছর আগে রংপুর থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা মন্দির পরিদর্শন করেছিলেন এবং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
তিনি বলেন, “মন্দিরটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো তথ্য আমাদের কখনো জানানো হয়নি। এখানে কোনো সাইনবোর্ডও লাগানো হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভক্তরা এখানে পূজা দিতে আসেন। মন্দিরটি টিকিয়ে রাখতেই আমরা বাধ্য হয়ে মাঝে মাঝে সংস্কার করেছি। যদি আগে জানতাম এটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি, তাহলে নিশ্চয়ই নিজেরা কোনো ধরনের সংস্কার করতাম না।”

স্থানীয় সাংবাদিক অনিল চন্দ্র রায় বলেন, “আমি নিয়মিত এই এলাকায় আসি এবং মন্দিরে পূজা করি। কিন্তু কখনো জানতে পারিনি যে এটি গেজেটভুক্ত প্রাচীন পুরাকীর্তি। যদি সত্যিই তা হয়ে থাকে, তাহলে এখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড থাকা উচিত ছিল।”
তিনি বলেন, “অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি থাকলে স্থানীয়রা নিজেরা সংস্কার করতেন না। ফলে মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির কারুকার্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতো না।”

রংপুর বিভাগীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ফিল্ড অফিসার আবু সাঈদ ইনাম তানভিরুল বলেন, “মন্দিরটি প্রাচীন পুরাকীর্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত। সে ক্ষেত্রে সেখানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড থাকার কথা। কেন এখনো তা স্থাপন করা হয়নি, সেটি খতিয়ে দেখা হবে। আমি সম্প্রতি এখানে দায়িত্ব নিয়েছি।”
তিনি বলেন, “প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে থাকা কোনো স্থাপনায় আমাদের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের সংস্কার করা যায় না। কোনো অংশে মেরামতের প্রয়োজন হলেও অনুমোদন নিতে হবে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক পোড়ামাটির কারুকার্য কোনোভাবেই ঢেকে দেওয়া বা নষ্ট করা যাবে না।”
তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই মন্দিরটি পরিদর্শন করা হবে। প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড স্থাপন, সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার এবং মন্দির পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


More News Of This Category