কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদ
জমি অধিগ্রহন জটিলতায় ৩০০ মিটার বাঁধ করা যায়নি: পাউবো
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ঠিকাদার যখনই অবশিষ্ট ৩০০ মিটার বাঁধের কাজ করতে গেছেন তখনই বাঁধের পাশের জমির মালিকানা দাবীকারী ব্যক্তিরা বাঁধা দিয়েছেন। ৩০০ মিটারের মধ্যে ৩০-৪০ মিটার অংশ নিচু হওয়ায় দুধকুমার নদের পানি হুহু করে লোকালয়ে ঢুকছে। প্রকল্পের ২৮০০ মিটার বাঁধে কোন সমস্যা হয়নি। ‘৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করা গেলে দুধকুমার নদের ডানতীর সুরক্ষিত থাকবে,’ তিনি বলেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, ‘বাঁধের পাশের জমির মালিকদের অজ্ঞতার কারনে এখন কয়েকশ কৃষককে ক্ষতিরমুখে পড়তে হয়েছে। বাঁধটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে দুধকুমারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারতো না। দুধকুমারের পানি এখন আমাদের ঘরে ভেতরে।’
অপর কৃষক আব্দুল মালেক জানান, ‘আগেও এই অংশে বাঁধ ছিলো তবে সেটি সরু ও নিচু ছিলো। বাঁধটি উঁচু ও প্রশস্ত করতে চেয়েছিলো পানি উন্নয়ন বোর্ড। এলাকাবাসীর সাথে কয়েকবার বৈঠকও হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজনের বাঁধার কারনে কাজটি শুরু করতে পারেনি।’ ‘দুধকুমারের ডানতীরে যে অংশ বাঁধের কাজ শেষ হয়েয়ে সেসব স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। আদর্শপাড়া অংশে বাঁধ না হওয়া দুধকুমারের পানিতে আমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি,’ তিনি বলেন।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি জানান, বাঁধ দিয়ে দুধকুমারে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বামটারী, তেলানী কুটি, ধনীটারী, সেনপাড়া ও মিয়াপাড়া গ্রামের কয়েকশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাঁধটি উঁচু ও প্রশস্তকরণ কাজ হলে এ সমস্যার সৃষ্টি হতো না। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু আইনী জটিলতার কারনে বাঁধটির কাজ করতে পারেনি। ‘আমি নিজেও জমির মালিকানা দাবীদারদের বুঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। যেভাবেই হোক বাঁধটি নির্মাণ করতে হবে, তা না হলে আগামিতে আরো ক্ষতি করবে,’ তিনি বলেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান,’ আমরা আইনীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল ব্যবস্থা করে ৩০০ মিটার বাঁধের কাজ সম্পন্ন করা হবে।’