নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়নের ডাকপাড়া গ্রামে একটি ইন্টারনেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগানো ও পরে তালা ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডাকপাড়ার ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রনির দোকানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে— এমন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে যান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রিপন হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডা. কামাল, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক মো. নিজাম, জিনজিরা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খোকন এবং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ইসলাম সজীব।
বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, দোকানের ভেতর থেকে কিছু লাঠিসোটা উদ্ধার করা হয়। পরে দোকানে থাকা ব্যক্তিদের বের করে দিয়ে দোকানটিতে তালা লাগিয়ে চাবি নিজেদের হেফাজতে রাখা হয়। এ বিষয়ে রিপন হোসেন বলেন, “২৪ তারিখের পর আমার কাছ থেকে চাবি বুঝে নিতে বলা হয়েছিল।”
অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্র জানায়, পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেন চাবি চাইতে গেলে দায়িত্ব একে অন্যের ওপর চাপানো হয়। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে না পেয়ে তিনি তালা ভেঙে দোকানে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সাদ্দামের বাসায় গেলে তাকে না পেয়ে ফিরে আসেন। এ সময় সাদ্দাম জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর ২৪ জুন সকালে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী রনি ও সাদ্দাম হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রিপন হোসেন বলেন, “আমরা কোনো চাঁদাবাজি করিনি। দলের বদনাম হয়— এমন কোনো কাজ আমরা করব না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, “আমি বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে আছি। থানায় গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।