গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যা: খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
২২ জুন, ২০২৬
গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে জেলা শহর। আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করে সংগঠনটি। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে বাস টার্মিনালে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এদিন জেলার সাতটি উপজেলা থেকে আসা শিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী বিক্ষোভে অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায় এবং ‘সাইফুল্লাহ হত্যার বিচার চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো শহর।
বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন— ফেরদৌস আলম (পৌর জামায়াতে ইসলামী) মোজাহিদুল হাসান (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি) ফাহিম হাসান (গাইবান্ধা জেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক)
আবু হাসান আকন্দ (সাবেক জেলা সভাপতি) মোঃ ফেরদৌস সরকার রুম্মান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল এবং তার ভাই পলাশসহ বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলে ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৬ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রশাসনকে আলটিমেটাম দিয়ে নেতারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে সারা বাংলাদেশ অচল করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গতকাল (রোববার) বিকেলে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে এই বিরোধের জের ধরে সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল ও তার ভাই পলাশসহ একদল হামলাকারী ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় সাইফুল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই হামলায় একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিনও গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং উপজেলার শিমুল তাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মওলানার ছেলে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।