নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ: ট্রাফিক সার্জেন্ট ক্লোজড
আরমান হোসেন রাজু
রংপুর বিভাগীয় ক্রাইম রিপোর্টার।
০১৭১৭৭৭৬৯৭২
২১ জুন, ২০২৬
নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৫) প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আজ রোববার (২১ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (টিআই) আলতাব হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম সম্প্রতি ট্রাফিক সচেতনতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করছিলেন। এই সূত্র ধরেই ‘নিঝুম’ নামের এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে তার পরিচয় এবং পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ জুন রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণমারী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ওই নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় জনতা বাসাটি ঘেরাও করে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা বাসা থেকে বের হতে পারেননি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, অবরুদ্ধ করার পর ওই বাসা থেকে ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে মাদক উদ্ধারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পরপরই প্রভাবশালী একটি মহলের মধ্যস্থতা এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে ওই রাতেই সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। অবশ্য এই সমঝোতার সত্যতা নিয়ে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গাইবান্ধা ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (টিআই) আলতাব হোসেন জানান, ১৭ জুন রাতের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলমকে ক্লোজড করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান জানান, রোববার দুপুর পর্যন্ত এই ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড এবং সটকে পড়ার নেপথ্যে আর্থিক সমঝোতার গুঞ্জন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।