কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে জমি রেজিস্ট্রি শেষে বের হওয়ার সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ ১১ লাখ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পুলিশ এবং পরবর্তীতে টেকনাফ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা জিয়াবুল হক মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে বের হওয়ার সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে তার কাছে চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা জমি বিক্রি ও দোকান ক্রয়ের জন্য বহনকৃত নগদ ১১ লাখ টাকা এবং একটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় থানায় অভিযোগ বা মামলা করলে প্রাণনাশ ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের সহায়তায় আহত জিয়াবুল হককে উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি টেকনাফ মডেল থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল জব্বার, মুহিব উল্লাহ, লাল গুলা, সিদ্দিক, আমান উল্লাহ, মাসুদ আলম হৃদয়, সালমান, রহিম উদ্দিন, আব্দুল্লাহসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি।
ভুক্তভোগী জিয়াবুল হক বলেন, “বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী দল আমার ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। ঘটনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, টেকনাফ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে ছিনতাই ও মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ কাজ করছে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।