শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ অপরাহ্ন
Headline :
দিন কাটে স্কুলে, রাত কাটে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে গৃহহীন নাঈমের স্বপ্ন -পড়াশোনা করে একদিন মানুষ হবে। মাদরাসা নিবন্ধন নীতির প্রতিবাদে ১০ দফা দাবিতে ইসলামী সংগঠনগুলোর সমাবেশ। গাইবান্ধা আদালত প্রাঙ্গণের প্রধান ফটকে হামলার অভিযোগ, সরকারি বালক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ট্রেইনারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। এদিকে ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “আগামী রোববার ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধর্মপাশা উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং-এর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হত্যা বাঁশখালীর বন্যার্তদের পাশে বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, ৬০০ মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ

চিলমারীতে “অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও ব্রহ্মপুত্র নদ-রক্ষায়” স্থানীয়দের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন।

Update : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি, বাংলার সংবাদ।

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে “চিলমারী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক” নিহারিকা শারমিন দিপির সভাপতিত্বে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলন ও অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিং বন্ধ, নদী ভাঙন রোধ এবং ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০শে মে) সকাল সাড়ে ১১টায় দিকে “উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের ফকিরের হাট বাঁধের মোড়ে” এলাকার সচেতন তরুণ সমাজের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
‘মানববন্ধনে কয়েক’শ নারী-পুরুষ অংশ গ্রহন করেন। ‘নদী ভাঙনে তীরের মানুষ কাঁদে আর বালু দস্যুরা টাকার পাহাড় বাঁধে’, ‘বাপ-দাদার ভিটা বাঁচান, রাণীগঞ্জবাসী রুখে দাঁড়ান’সহ বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত ব্যানার- ফেস্টুন হাতে নিয়ে তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।’
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং পরিচালিত হওয়ায় নদীর স্বাভাবিক গতি প্রকৃতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকিও বেড়ে গেছে। নদীর তীরবর্তী শত শত পরিবার বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ইতোমধ্যে হাজার হাজার পরিবার নদীর গর্ভে জমি ও ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবি গুলোর মধ্যে রয়েছে, (১) অবিলম্বে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলন ও অনিয়ন্ত্রিত ড্রেজিং বন্ধ, (২) প্রশাসনের জব্দ করা বালু ২০০৯ সালের মোবাইল কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত অপসারণ এবং পরিবেশ সম্মত নদী খনন নিশ্চিত করা। (৩) কাঁচকোল থেকে ফকিরের হাট পর্যন্ত স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, (৪) টি-বাঁধ, পিসি ব্লোক ও জিও ব্যাগসহ নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। (৫) নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর পুনর্বাসন। (৬) সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিয়মিত টহল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। এ সময় বক্তব্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘নদীকে ধ্বংস করে কোন উন্নয়ন হতে পারে না। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক চরিত্র নষ্ট হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা আজ হুমকির মুখে। জনস্বার্থে এসব কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, ফকিরের হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন, সফলতার শিকড় ফাউন্ডেশনের কার্যকরী সদস্য শাহজামাল, কার্যকরী সদস্য আশিক ইকবাল, কার্যকরী সদস্য রফিকুল ইসলাম রতন, খন্দকার বদরুল ইসলাম রাজু, সোহেল রানা, ব্যবসায়ী মুকুল মন্ডল ও ভুক্তভোগী পরিবার আকতার লিপিসহ আরও অনেক উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। পরে মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে দেন। এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে তাদের কার্যক্রম শেষ করেন।


More News Of This Category