রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ন
Headline :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরক ও হেরোইনসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। জাতীয় পুনর্গঠন কৌশল (National Reconstruction Strategies)। এসএসি ভোকেশনালের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড হারানো প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তি। গজারিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে সর্বস্তরের জনতার ঢল । যমুনা ফিউচার পার্কের আশেপাশের চোর চক্র দ্বারা অতিষ্ঠ জনসাধারণ। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। নিখোঁজ সংবাদ । কালবৈশাখী সহ বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা! সাংবাদিক ও সচেতন মহলের প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা ও ত্রান মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মহোদয়ের আহবান। তিস্তা টোল প্লাজায় তল্লাশি,প্রায় ২ কোটি টাকার মার্কিন ডলারসহ যুবক আটক।

Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

মোঃ সোহেল রানা,
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি, বাংলার সংবাদ।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগে যেন অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালের অত্যন্ত সংবেদনশীল এই বিভাগে দেখা মিলছে এক অদ্ভুত দৃশ্যের। যেখানে দক্ষ ও সার্টিফাইড টেকনিশিয়ানদের থাকার কথা, সেখানে প্যাথলজি বিভাগের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা সেজে বসেছেন খোদ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. শাকিল সরোয়ারের গাড়ি চালক বেল্লাল হোসেন।

কখনো রোগীদের পরীক্ষার ফি’র টাকা জমা নিচ্ছেন, আবার কখনো কম্পিউটারে বসে তৈরি করছেন জটিল সিবিসি (CBC) রিপোর্ট! হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে বেল্লালের এমন ‘বহুরূপী’ ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মনে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেল্লাল হোসেন মূলত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউট সোর্সিং (বদলি ড্রাইভার) হিসেবে টিএইচও ডা. শাকিল সরোয়ারের গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত আছেন। তবে চালকের সিটে থাকার চেয়ে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগেই তার উঁকিঝুঁকি বেশি। অভিযোগ রয়েছে, টিএইচও’র অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে প্যাথলজি বিভাগের আর্থিক হিসাব-নিকাশ রাখার দায়িত্ব পান তিনি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে হিসাবরক্ষকের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন পুরোদস্তুর প্যাথলজি টেকনিশিয়ান বনে গেছেন। তার দেওয়া ভুল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে রোগীদের ভুল চিকিৎসা পাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাওয়া হয় গাড়ি চালক বেল্লালের কাছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি প্যাথলজি বিভাগের কাজের সাথে যুক্ত থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তবে তার টাকা নেওয়া, রিপোর্ট তৈরি করার অকাট্য প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ সামনে রেখে চ্যালেঞ্জ করা হলে তিনি থতমত খেয়ে যান এবং কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে, একজন চালক কীভাবে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করছেন—এমন প্রশ্নে সম্পূর্ণ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. শাকিল সরোয়ার। তিনি যেন ‘আকাশ থেকে পড়লেন’। নিজের বিশ্বস্ত চালকের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না দাবি করে বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই শোকজসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সরকারি হাসপাতালের ল্যাবে একজন দক্ষ টেকনিশিয়ানের উপস্থিতিতে একজন গাড়ি চালক দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্ট তৈরির এই ঘটনাকে চরম খামখেয়ালিপনা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনতিবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধ করে প্যাথলজি বিভাগের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।


More News Of This Category