মোঃ দুলাল সরকার ,গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি, বাংলার সংবাদ।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় চর বাউশিয়া বড়কান্দিতে শিল্পকারখানা স্থাপনের নামে সাধারণ কৃষকদের তিন ফসলি জমি ও সরকারি খাল জোরপূর্বক বালু ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ কামরুজ্জামান রতন। যেকোনো মূল্যে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) বিকালে উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চর বাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র।
স্থানীয়দের দাবি, কোনো প্রকার ক্রয় বা অনুমতি ছাড়াই কৃষকদের তিন ফসলী জমি রাতের অন্ধকারে বালু ফেলে ভরাট করছে প্রতিষ্ঠানটি। বাধা দিলে জুটছে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি।
ভুক্তভোগী কৃষক হোসেন জানান, জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় প্রথমে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে পাশের জমিতে বালু ভরাটের সময় তার জমিতে কেবল পানি আসবে। কিন্তু পরে তার পুরো জমিই জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করায় ভূমিদস্য চক্রের সদস্য সোলাইমান, আলী আহমদ ও সাত্তারসহ কয়েকজন তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “জমি বিক্রি করলে টাকা পাব কিন্তু পরবর্তীতে কী খেয়ে বাঁচব? এই জমিতে চাষাবাদ করে আমি সংসার চালাই।”
একই গ্রামের কৃষক জীবন সরকার জানান, তাদের তিন ভাইয়ের সাড়ে চার বিঘা সম্পত্তি কোনো প্রকার ক্রয় না করেই বালু ভরাট করা হয়েছে। এখন তারা জমি বিক্রি করতে চাইলেও প্রতিষ্ঠানটি তা কিনছে না বরং জোরপূর্বক দখলে রাখার হুমকি দিচ্ছে।
আরেক ভুক্তভোগী মোস্তফা বলেন, “আমার ৫২ শতক জমি রাতের অন্ধকারে ভরাট করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় আমাকে পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কামরুজ্জামান রতন বলেন, “আমি আজ এখানে এসে দেখলাম অন্তত ৪৫ জন বৈধ মালিকের জমি কাগজপত্র ছাড়াই দখল করা হয়েছে। মানুষের এই আহাজারি সহ্য করার মতো নয়। জমির মূল্য পরিশোধ বা রেজিস্ট্রি না করে যারা এই দখলযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের এর দায়ভার নিতে হবে। ভূমিদস্যুরা যত শক্তিশালীই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীরা যেন তাদের অধিকার ফিরে পায় সেটি আমি নিশ্চিত করব।”
এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”