সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
Headline :
তিস্তামুখ-বাহাদুরাবাদ সেতুর দাবিতে ফুলছড়িতে হাজারো মানুষের মানববন্ধন। লিচু দেওয়ার প্রলোভনে শিশুকে ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, বখাটে যুবক গ্রেফতার। যেসব কারণে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদের মান-মর্যাদা। রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি’র অভিযানে মিঠাপুকুরে ৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার, ০১ (এক) জন মাদক কারবারি আটক রুবিওর দিল্লি সফরে ট্রাম্পের ফোন: ‘ভারত যা চায় তাই পাবে’ — বাংলাদেশ ইস্যুতে কী বোঝাপড়া? মুজিব বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও দালিলিক প্রমান। প্রবীন রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলামের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠনের শোক প্রকাশ জিয়ার হ্যাঁ/না ভোটরঙ্গ : ভোটারদের অভিজ্ঞতার আলোকে ভারতে চামড়া পাচার রোধে হিলি সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, টহল জোরদার।

সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ: আলোচনায় আসিফ নজরুল, নেপথ্যে রমজান-মাইকেল সিন্ডিকেট

Update : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা

সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে রমজান খান ও মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট সচিবালয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেন সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গ্রুপ। পরবর্তীতে নিয়মিত নির্বাচন না দিয়েই কমিটির নিয়ন্ত্রণ নেয় একটি চক্র, যেখানে সামনের সারিতে আনা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাইকেল মহিউদ্দিনকে।

২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে নামমাত্র সভাপতি করা হয় খন্দকার জামিলুর রহমানকে, আর বাস্তবে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মহাসচিব পদে থাকা মাইকেলের হাতে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই শুরু হয় নতুন করে বদলি বাণিজ্য।

বদলিতে কোটি টাকার লেনদেন

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঢাকার সাভার, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, টঙ্গী, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন “লোভনীয়” এলাকায় পদায়নের জন্য ৪-৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। এসব অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, যার নেতৃত্বে ছিলেন রমজান খান।

অভিযোগে বলা হয়, বদলির বিনিময়ে নেওয়া টাকার একটি বড় অংশ যেত উচ্চপর্যায়ে। এমনকি পদায়ন ধরে রাখতেও মাসিক ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়ম ভেঙে একাধিক বদলি

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র আট মাসে (অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫) ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের পদায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ।

নীতিমালা অনুযায়ী ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেড অনুযায়ী পদায়নের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ৬-৭ মাসের মধ্যে একজন কর্মকর্তাকে ৩-৪ বার পর্যন্ত বদলি করা হয়েছে।

প্রভাব বিস্তারে হোটেল বৈঠক

সূত্র জানায়, ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোর বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে বসে বদলি বাণিজ্যের চুক্তি হতো। সেখানে চূড়ান্ত হতো কে কোথায় পদায়ন পাবেন এবং কত অর্থ দিতে হবে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

কমিটির বিভিন্ন পদধারী সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে যে, তারা পদ পাওয়ার পরপরই লোভনীয় জায়গায় বদলি হয়েছেন। অনেকেই পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন পদায়ন নিয়েছেন।

দুদকে অভিযোগ

এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন দুদকে লিখিত আবেদন করেছেন। এতে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তদন্ত দাবি করা হয়েছে।

সারসংক্ষেপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গই নয়, বরং ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন করছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


More News Of This Category