শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
Headline :
১৭ এপ্রিল: মুজিবনগর দিবসের চেতনা ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতা ——মানিক লাল ঘোষ—– ​বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য মাইলফলক ১৭ এপ্রিল—ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে তদানীন্তন কুষ্টিয়া জেলার, বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণের প্রেক্ষাপট মূলত রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। এদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ গঠন করা হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (Proclamation of Independence) জারি করা হয়। ১০ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল—এই অন্তর্বর্তী সময়েও রাষ্ট্রপরিচালনার সমস্ত দিকনির্দেশনা আসছিল বঙ্গবন্ধুর সত্তা ও তাঁর পূর্বঘোষিত আদর্শ থেকে। যদিও বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি, কিন্তু তাঁর বজ্রকণ্ঠ আর আজীবন সংগ্রামের অনুপ্রেরণাই ছিল এই সরকারের মূল শক্তি। ​মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত এই ঐতিহাসিক মন্ত্রিসভার রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তাজউদ্দীন আহমদ। এছাড়া এম মনসুর আলী অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদও মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ​মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ। এই সরকারের নেতৃত্বেই নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বিশ্ববাসী জানতে পারে—বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র। ​দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মারকে হামলা ও ভাঙচুর এবং ইতিহাসের অবমাননার ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কেবল ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়; এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব এবং স্বাধিকার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। যেকোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় ইতিহাসের শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা জাতি হিসেবে আমাদের দেউলিয়া হওয়ারই পরিচয় দেয়। একটি স্থাপনা ভাঙা মানে কেবল স্থাপত্যশৈলী ধ্বংস করা নয়, বরং সেই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা, যা লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। ইতিহাস কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি সমগ্র জাতির দর্পণ। ​বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। ইতিহাসকে রাজনৈতিক মেরুকরণের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। ক্ষমতার পরিবর্তন হবে, সরকার বদলাবে; কিন্তু ১৭ এপ্রিল বা ১০ এপ্রিলের মতো ঐতিহাসিক ভিত্তিগুলো ধ্রুব। এগুলোর ওপর আঘাত হানার অর্থ হলো নিজেদের ভিত্তিকে দুর্বল করা। মুজিবনগর দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে আনতে পারে। ভাঙচুর বা বিদ্বেষের মাধ্যমে কোনো মহান ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। বরং ইতিহাসের সত্যকে গ্রহণ করেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিত—জাতীয় সম্পদ ও ইতিহাস রক্ষা করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুসংহত বাংলাদেশ গড়ার। ​(মানিক লাল ঘোষ: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি) দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় মাদক সেবনের অভিযোগে এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশন ও সুইজ গেটের দাবিতে মোরেলগঞ্জে মানববন্ধন। লালমনিরহাটে প্রতিপক্ষের হামলায় চিকিৎসাধীন যুবকের মৃত্যু ,এলাকায় শোকের ছায়া। রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন আদিতমারী উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সোহরাব। গাবতলী সোনাকানিয়া হিজাবুন নূর বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া মাহফিলে সাবেক এমপি লালু। ভোগনগরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি। দেশবন্ধু রেমিটেন্স যোদ্ধা সংসদ নিউক্যাসেল শাখা ইউকের ২১ সদস‍্য কমিটি গঠন রাজবাড়ীতে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, অপহৃতকে উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৫। ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

সাঘাটা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জুয়েল আমিন বহিষ্কার

Reporter Name / ২০ Time View
Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টারঃ

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি মোঃ জুয়েল আমিনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাঘাটা ইউনিয়ন শাখা থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকবে না। পাশাপাশি দলের সকল নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উক্ত সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেন সাঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতাউর রহমান।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

১৭ এপ্রিল: মুজিবনগর দিবসের চেতনা ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতা ——মানিক লাল ঘোষ—– ​বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য মাইলফলক ১৭ এপ্রিল—ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে তদানীন্তন কুষ্টিয়া জেলার, বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণের প্রেক্ষাপট মূলত রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। এদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ গঠন করা হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (Proclamation of Independence) জারি করা হয়। ১০ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল—এই অন্তর্বর্তী সময়েও রাষ্ট্রপরিচালনার সমস্ত দিকনির্দেশনা আসছিল বঙ্গবন্ধুর সত্তা ও তাঁর পূর্বঘোষিত আদর্শ থেকে। যদিও বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি, কিন্তু তাঁর বজ্রকণ্ঠ আর আজীবন সংগ্রামের অনুপ্রেরণাই ছিল এই সরকারের মূল শক্তি। ​মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত এই ঐতিহাসিক মন্ত্রিসভার রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তাজউদ্দীন আহমদ। এছাড়া এম মনসুর আলী অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদও মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ​মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ। এই সরকারের নেতৃত্বেই নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বিশ্ববাসী জানতে পারে—বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র। ​দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মারকে হামলা ও ভাঙচুর এবং ইতিহাসের অবমাননার ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কেবল ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়; এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব এবং স্বাধিকার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। যেকোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় ইতিহাসের শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা জাতি হিসেবে আমাদের দেউলিয়া হওয়ারই পরিচয় দেয়। একটি স্থাপনা ভাঙা মানে কেবল স্থাপত্যশৈলী ধ্বংস করা নয়, বরং সেই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা, যা লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। ইতিহাস কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি সমগ্র জাতির দর্পণ। ​বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। ইতিহাসকে রাজনৈতিক মেরুকরণের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। ক্ষমতার পরিবর্তন হবে, সরকার বদলাবে; কিন্তু ১৭ এপ্রিল বা ১০ এপ্রিলের মতো ঐতিহাসিক ভিত্তিগুলো ধ্রুব। এগুলোর ওপর আঘাত হানার অর্থ হলো নিজেদের ভিত্তিকে দুর্বল করা। মুজিবনগর দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে আনতে পারে। ভাঙচুর বা বিদ্বেষের মাধ্যমে কোনো মহান ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। বরং ইতিহাসের সত্যকে গ্রহণ করেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিত—জাতীয় সম্পদ ও ইতিহাস রক্ষা করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুসংহত বাংলাদেশ গড়ার। ​(মানিক লাল ঘোষ: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)

১৭ এপ্রিল: মুজিবনগর দিবসের চেতনা ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতা ——মানিক লাল ঘোষ—– ​বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান স্বাধীনতা। আর এই স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য মাইলফলক ১৭ এপ্রিল—ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে তদানীন্তন কুষ্টিয়া জেলার, বর্তমান মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণের প্রেক্ষাপট মূলত রচিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। এদিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ গঠন করা হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (Proclamation of Independence) জারি করা হয়। ১০ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল—এই অন্তর্বর্তী সময়েও রাষ্ট্রপরিচালনার সমস্ত দিকনির্দেশনা আসছিল বঙ্গবন্ধুর সত্তা ও তাঁর পূর্বঘোষিত আদর্শ থেকে। যদিও বঙ্গবন্ধু তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি, কিন্তু তাঁর বজ্রকণ্ঠ আর আজীবন সংগ্রামের অনুপ্রেরণাই ছিল এই সরকারের মূল শক্তি। ​মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত এই ঐতিহাসিক মন্ত্রিসভার রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তাজউদ্দীন আহমদ। এছাড়া এম মনসুর আলী অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদও মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। ​মুজিবনগর সরকার গঠন ছিল নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ। এই সরকারের নেতৃত্বেই নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। ১৭ এপ্রিলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বিশ্ববাসী জানতে পারে—বাংলাদেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র। ​দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মারকে হামলা ও ভাঙচুর এবং ইতিহাসের অবমাননার ঘটনা আমাদের মর্মাহত করেছে। মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কেবল ইট-পাথরের কোনো স্থাপনা নয়; এটি আমাদের জাতীয় অস্তিত্ব এবং স্বাধিকার আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। যেকোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় ইতিহাসের শিকড় উপড়ে ফেলার চেষ্টা জাতি হিসেবে আমাদের দেউলিয়া হওয়ারই পরিচয় দেয়। একটি স্থাপনা ভাঙা মানে কেবল স্থাপত্যশৈলী ধ্বংস করা নয়, বরং সেই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা, যা লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। ইতিহাস কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি সমগ্র জাতির দর্পণ। ​বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। ইতিহাসকে রাজনৈতিক মেরুকরণের ঊর্ধ্বে রাখা জরুরি। ক্ষমতার পরিবর্তন হবে, সরকার বদলাবে; কিন্তু ১৭ এপ্রিল বা ১০ এপ্রিলের মতো ঐতিহাসিক ভিত্তিগুলো ধ্রুব। এগুলোর ওপর আঘাত হানার অর্থ হলো নিজেদের ভিত্তিকে দুর্বল করা। মুজিবনগর দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে আনতে পারে। ভাঙচুর বা বিদ্বেষের মাধ্যমে কোনো মহান ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। বরং ইতিহাসের সত্যকে গ্রহণ করেই আমাদের আগামীর পথ চলতে হবে। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিত—জাতীয় সম্পদ ও ইতিহাস রক্ষা করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুসংহত বাংলাদেশ গড়ার। ​(মানিক লাল ঘোষ: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি)