মোঃ ফিরোজ আহমেদ। | মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের -৪ (মোরেলগঞ্জ- শরণখোলা ) আসনের জামাত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভা উপজেলার ১৫ নং সদর ইউনিয়নে বিবি আফসার আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মোরেলগঞ্জের বিবি আফসার আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমের নির্বাচনী জনসভায় হাজারো নেতাকর্মীর ঢল নামে।
এ সময় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বিএনপি ছেড়ে জামাতে যোগদান করেন এক বিএনপি নেতা। তিনি হলেন ১৫ নং সদর ইউনিয়নের ২ নং কাঁঠালতলা ওয়ার্ডের বিএনপির ওয়ার্ড সহ-সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
উক্ত জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আলোচক অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাফেজ সুলতান আহম্মেদ, উপজেলা জামায়াতে আমির এবং বাগেরহাট-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর পরিচালক মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন, পৌর আমির মাস্টার রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক মোঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার, থানা যুব বিভাগের সভাপতি শফিউল আযম, পৌর জামায়াত নেতা মাস্টার রেজাউল করিম, বাগেরহাট জেলা শিবির নেতা মাহাদী মিরাজ, বরিশাল জেলা শিবিরের ছাত্রনেতা আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী মানবসম্পদ বিভাগের নেতা নাজমুল হাসান সাইফ, উপজেলা যুব বিভাগ সম্পাদক মোঃ রাহাতুল ইসলাম সহ জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম বলেন,
“ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচার বিতাড়িত করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু ১৭ বছরের সুবিধাভোগীরা আজ সেই স্বপ্ন ভঙ্গের পাঁয়তারা করছে। তারা স্বৈরাচারী দোসরদের ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দিয়ে জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে। শুধু তাই নয়, মোরেলগঞ্জ-শরণখোলার ত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা তথা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ জনপদে পরিণত করতে চাই। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলে সকল ধর্মের মানুষের জান-মাল ও ইজ্জতের হেফাজত নিশ্চিত করতে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে।”
অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পানগুছি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সন্যাসী থেকে ঘষিয়াখালী পর্যন্ত একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এছাড়াও তিনি এ জনপদকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শেষে তিনি আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।